সূর্য নিভে যাওয়ার পরও বাঁচবে পৃথিবী? ৫০০ কোটি বছর পর প্রাণ বাঁচানোর ‘অবিশ্বাস্য’ পরিকল্পনা বিজ্ঞানীদের

সূর্য নিভে যাওয়ার পরও বাঁচবে পৃথিবী? আর প্রায় ৫০০ কোটি বছর পরে বদলে যাবে সূর্যের চেহারা। জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়ে লাল দৈত্যে পরিণত হবে সূর্য। তার প্রবল তাপে পৃথিবীর মহাসাগর ও…

August 10, 2026
1 min read

সূর্য নিভে যাওয়ার পরও বাঁচবে পৃথিবী?

আর প্রায় ৫০০ কোটি বছর পরে বদলে যাবে সূর্যের চেহারা। জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়ে লাল দৈত্যে পরিণত হবে সূর্য। তার প্রবল তাপে পৃথিবীর মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমনকি পৃথিবীকেই গিলে ফেলতে পারে সূর্য। তার পর এক সময় সূর্য পরিণত হবে সাদা বামনে। তখন পৃথিবীর জন্য সূর্যের আলো ও তাপ— কোনওটাই থাকবে না।

কিন্তু সেই সুদূর ভবিষ্যতেও কি পৃথিবীর প্রাণিজগতকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব? বিজ্ঞানীদের একাংশের উত্তর, তাত্ত্বিক ভাবে সম্ভব। অন্য গ্রহে পাড়ি না দিয়ে পৃথিবীকেই বাসযোগ্য রাখার কয়েকটি অদ্ভুত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা। গবেষণাটি বর্তমানে আর্কাইভ সার্ভারে রয়েছে এবং ‘সায়েন্স এক্স ডায়লগ’-এও প্রকাশিত হয়েছে।

সূর্যের সামনে বিশাল ‘ছাতা’

বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবগুলির মধ্যে অন্যতম হল সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি বিশাল ‘সানশেড’ বা সৌরছায়া তৈরি করা। সেটিকে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী মহাকর্ষীয় ভারসাম্যের অঞ্চল ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১’-এ স্থাপন করার কথা ভাবা হয়েছে।

এই বিশাল ছাতার সাহায্যে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছনো নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পৃথিবীর আকাশের প্রায় ৭০ ডিগ্রি এলাকা ঢেকে দেওয়ার মতো বড় হতে হবে সেটিকে। চাঁদের কক্ষপথের বাইরের দিকে এটি স্থাপন করা সম্ভব হলে আরও সুবিধা হবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

এত বড় কাঠামো তৈরির উপকরণ আসবে কোথা থেকে? বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বামন গ্রহ সেরেস থেকে কার্বন এবং চাঁদ থেকে অ্যালুমিনিয়াম সংগ্রহ করে সেই উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রস্তাবিত সানশেডের ব্যাসার্ধ প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ কিলোমিটার হতে পারে।

সূর্যের আলো না থাকলে?

সূর্যকে আড়াল করার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে— পৃথিবীতে আলো ও শক্তির জোগান আসবে কোথা থেকে? গবেষকদের প্রস্তাব, সৌরজগতের বিশাল গ্যাসীয় গ্রহগুলিকে শক্তির উৎস হিসাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার গভীরে ভাসমান ফিউশন রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম-৪ থেকে শক্তি উৎপাদনের একটি সম্ভাবনার কথাও তাঁরা বলেছেন। সেই শক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর আলো ও তাপের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

সূর্য পৃথিবীকে গিলে ফেললে?

সানশেড দিয়েও যদি শেষ পর্যন্ত পৃথিবীকে সূর্যের গ্রাস থেকে বাঁচানো না যায়, তা হলে পৃথিবীর কক্ষপথ বদলের প্রস্তাব রয়েছে। একটি বড় গ্রহাণুকে পৃথিবীর কাছাকাছি এনে তার মহাকর্ষ ব্যবহার করে পৃথিবীকে ধীরে ধীরে অন্য কক্ষপথে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন গবেষকেরা।

তবে এই পরিকল্পনাও যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে বড় কোনও গ্রহাণু উড়ে গেলে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকবে। বিকল্প হিসাবে বৃহস্পতি থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে পৃথিবীর পাশ দিয়ে ক্ষুদ্র কণারশ্মি ছোড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পৃথিবীর ভিতরের ‘ইঞ্জিন’ও চালু রাখতে হবে

সূর্যের পরিবর্তনের সঙ্গে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এক সময় পৃথিবীর পাতের সঞ্চালন থেমে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠে বিশাল গর্ত তৈরি করে তার মধ্যে গলিত লোহা ঢেলে দেওয়ার মতো চরম পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সেই গলিত লোহা পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছতে প্রায় দু’সপ্তাহ সময় নিতে পারে।

সবশেষে নজর রাখতে হবে গোটা ছায়াপথের ভবিষ্যতের দিকেও। অন্য নক্ষত্র বা মহাজাগতিক বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে বৃহস্পতির ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১ থেকে হাইড্রোজেন রশ্মি ছোড়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এর ফলে তৈরি হওয়া মহাকর্ষীয় ‘স্লিংশট’ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে গোটা সৌরজগতের অবস্থান পরিবর্তন করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন গবেষকেরা।

অবশ্য এই সব পরিকল্পনা বাস্তবে প্রয়োগের প্রশ্নই এখন ওঠে না। সময়ের হিসাবও এতটাই সুদূর— হাজার হাজার কোটি বছর পরে মহাবিশ্বের পরিস্থিতিই সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। তাই আপাতত পৃথিবীবাসীর সামনে রয়েছে আরও অনেক সময়— ঋতুর পরিবর্তন, দিনের রোদ এবং রাতের তারাভরা আকাশ উপভোগ করার।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *