সুযোগের পর সুযোগ নষ্ট, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বসনিয়ার বিরুদ্ধে ড্র!
বিশ্বকাপের প্রথম দু’টি ম্যাচে জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি হলেও তৃতীয় ম্যাচে দেখা গেল প্রথম ড্র। টরন্টোর উচ্ছ্বসিত দর্শকদের সামনে আয়োজক Canada ১-১ গোলে আটকে গেল Bosnia and Herzegovina-এর বিরুদ্ধে। তবে ম্যাচের চিত্র বলছে, তিন পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য দল ছিল কানাডাই। একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেই শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া করতে হয়েছে তাদের।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় কানাডাকে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে তারা বার বার বসনিয়ার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করছিল। আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন Jonathan David। কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হন তিনি। কখনও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাধা, কখনও ভুল সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়ে গোলের মুখ খুলতে পারেননি কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড।
প্রথম দিকে ডান দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করলেও পরে বাঁ দিককে বেশি ব্যবহার করতে শুরু করে কানাডা। তাতেও অবশ্য ফল মেলেনি। সুযোগ তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং ছিল হতাশাজনক। সেট পিস থেকেও কোনও সুবিধা আদায় করতে পারেনি তারা।
উল্টো দিকে ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ থেকেই গোল পেয়ে যায় বসনিয়া। কর্নার থেকে আসা বল গোলমুখে ফ্লিক হওয়ার পর ঠিক জায়গায় উপস্থিত ছিলেন Jovo Lukic। কাছ থেকে সহজেই বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের গতিপ্রকৃতির সম্পূর্ণ বিপরীতে আসা এই গোল মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দেয় টরন্টো স্টেডিয়ামকে।
গোল খাওয়ার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি কানাডা। প্রথমার্ধে তারা দশটিরও বেশি শট নেয়, কিন্তু কোনওটিই গোলরক্ষক বা রক্ষণভাগকে ভেদ করতে পারেনি। অন্যদিকে বসনিয়া সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বার বার বিপদের ইঙ্গিত দিতে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। লিয়াম মিলারের পাস থেকে টিয়ান ওলুয়াসেয়ির শট প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করতে গিয়ে বসনিয়ার ডিফেন্ডার Sead Kolasinac আত্মঘাতী গোলের পরিস্থিতি তৈরি করলেও ক্রসবারে লেগে বল ফিরে আসে।
৬১ মিনিটে কোচ Jesse Marsch একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন। সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নতুন উদ্যমে আক্রমণ শুরু করে কানাডা। মাঠে নেমেই প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন Promise David। কিছুক্ষণ পর আবার গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেয় বসনিয়ার রক্ষণভাগ।
অবশেষে ৭৯ মিনিটে অপেক্ষার অবসান হয়। সতীর্থের দুর্দান্ত ব্যাক-ফ্লিক থেকে বল পেয়ে দ্রুত ঘুরে শট নেন Cyle Larin। তাঁর নিখুঁত ফিনিশেই সমতায় ফেরে কানাডা।
শেষ দশ মিনিটে আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল আয়োজকরা। কিন্তু ভাগ্য ও ফিনিশিং— দু’টিই সঙ্গ দেয়নি। ফলে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে ১-১। খেলা দেখে মনে হলেও জয়টা কানাডার প্রাপ্য ছিল, বাস্তবে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হল একটি পয়েন্ট নিয়েই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?