সুভাষচন্দ্রের জন্মদিনে ঘুরে আসুন তাঁর স্মৃতি বিজড়িত কিছু জায়গা!

সুভাষচন্দ্রের জন্মদিনে ঘুরে আসুন ২৩ জানুয়ারি, বাঙালির হৃদয়ের নায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। এক সময় এই দিনটি বাঙালি ঘরে ঘরে পায়েস রান্না করে উদ্‌যাপন করা হতো। সুভাষচন্দ্রের ছবি ফুল ও চন্দনে…

January 23, 2025
0 min read

সুভাষচন্দ্রের জন্মদিনে ঘুরে আসুন

২৩ জানুয়ারি, বাঙালির হৃদয়ের নায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। এক সময় এই দিনটি বাঙালি ঘরে ঘরে পায়েস রান্না করে উদ্‌যাপন করা হতো। সুভাষচন্দ্রের ছবি ফুল ও চন্দনে সাজিয়ে, সেই পায়েস উৎসর্গ করে পরে পরিবারের সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার চল ছিল। এমন আবেগে ভরা ঐতিহ্য বাঙালি সংস্কৃতিরই বিশেষ দিক।

তবে সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি বাঙালির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা শুধুই আবেগে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে আজও ২৩ জানুয়ারি উদ্‌যাপনের এক আলাদা মাত্রা পায়। যদি একটু ভিন্নভাবে এই দিনটি কাটাতে চান, তাহলে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন এবং ঘুরে আসুন নেতাজির স্মৃতি জড়ানো কিছু বিশেষ জায়গা।

১. নেতাজি ভবন (এলগিন রোড, কলকাতা)

কলকাতার এলগিন রোডে অবস্থিত সুভাষচন্দ্র বসুর বাড়ি এখন পরিচিত “নেতাজি ভবন” নামে। সুভাষচন্দ্রের বাবা জানকীনাথ বসু ১৯০৯ সালে এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। এখান থেকেই সুভাষচন্দ্রের বিপ্লবের সূত্রপাত হয়। ১৯৪১ সালে গৃহবন্দি অবস্থায় এই বাড়ি থেকেই তিনি লুকিয়ে পালিয়ে যান এবং বার্লিনে গিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন।
নেতাজি ভবন এখন একটি সংগ্রহশালা। বাড়িটির প্রতিটি কোণ যেন স্বাধীনতার লড়াইয়ের সাক্ষী। এখানে সুভাষচন্দ্রের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, লেখালেখি ও ছবির একটি বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

২. সুভাষের পৈতৃক ভিটে (কোদালিয়া)

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোদালিয়া, যা এখন “সুভাষগ্রাম” নামে পরিচিত, সুভাষচন্দ্রের পৈতৃক ভিটের স্মৃতি বহন করে। ছোটবেলার কিছুটা সময় তিনি এখানে কাটিয়েছিলেন। তাঁর ঠাকুরদা হরনাথ বোস এই বাড়ি তৈরি করেছিলেন, যা “হরনাথ লজ” নামে পরিচিত।
গ্রামের কেন্দ্রে বোস পরিবারের মন্দির রয়েছে, যেখানে দুর্গাপুজো হত। পুজোর সময় সুভাষও এখানে আসতেন। কোদালিয়ার এই বাড়ি এবং মন্দির সুভাষচন্দ্রের জীবন ও শিকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

৩. স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল (কলকাতা)

কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের পিছনে অবস্থিত এই ১১৩ বছরের পুরনো পাইস হোটেলটি সুভাষচন্দ্রের প্রিয় ছিল। তখন তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র। এখানে তিনি পুঁইশাক চচ্চড়ি ও মুড়িঘণ্ট খেতে ভালোবাসতেন।
আজও এই হোটেলে ২৩ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন উদ্‌যাপন করা হয়। প্রথম ১০০ জন গ্রাহকের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়।

৪. প্যারামাউন্ট শরবত (কলকাতা)

কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের প্যারামাউন্ট শরবতের দোকানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সুভাষচন্দ্রের বিপ্লবী কর্মকাণ্ড। একসময় এই দোকানের নাম ছিল “প্যারাডাইস”। দোকানের পিছনের একটি ঘরে সুভাষচন্দ্র বিপ্লবীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করতেন। যদিও পরে ব্রিটিশ পুলিশ এই দোকানটি বন্ধ করে দেয়।
আজও সেই স্মৃতিবিজড়িত দোকানটি শরবতপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। নেতাজির জন্মদিনে এখান থেকে শরবত চেখে দেখাও হতে পারে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।

৫. লক্ষ্মীনারায়ণ সাউ অ্যান্ড সন্স (কলকাতা)

সুভাষচন্দ্রকে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বহিষ্কার করার পরে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। সেই সময় তাঁর প্রিয় খাদ্যগৃহ হয়ে ওঠে “লক্ষ্মীনারায়ণ সাউ অ্যান্ড সন্স”। এখানকার তেলেভাজা খেতে তিনি খুবই পছন্দ করতেন।
আজও ২৩ জানুয়ারি এই দোকানে আসা ক্রেতাদের তেলেভাজা বিনামূল্যে পরিবেশন করা হয়।

কেন ঘুরে দেখবেন এই জায়গাগুলি?

নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত প্রতিটি জায়গাই আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস ও সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই জায়গাগুলি ঘুরে দেখার মাধ্যমে শুধু সুভাষচন্দ্রকে নতুন করে অনুভব করা যায় না, তাঁর জীবন ও আদর্শকেও আরো কাছ থেকে জানা যায়।

তাই, এবার সুভাষচন্দ্রের জন্মদিনে ঘরবন্দি না থেকে বেরিয়ে পড়ুন। নেতাজির জীবন ও স্মৃতির এই বিশেষ স্থানগুলো পরিদর্শন করে দিনটি আরও অর্থবহ করে তুলুন।

পাঁচ দিন পর সইফ বাড়ি ফিরলেন একা, কিন্তু করিনা কোথায়? নবাবকে ঘরে স্বাগত জানাতে ছিল বিশেষ আয়োজন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *