‘সুপার সাব’ মেরিনোর জাদুতে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেন!
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের দুর্দান্ত ছন্দ বজায় রাখল স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো। অতিরিক্ত সময়ে তাঁর করা গোলই স্পেনকে এনে দিল কাঙ্ক্ষিত জয়। তবে সেই গোলের পিছনে বেলজিয়ামের পরিবর্ত গোলকিপার সেন লেমেন্সের বড়সড় ভুলও ছিল স্পষ্ট।
এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে ইউরোপের দুই শক্তিধর দল স্পেন ও ফ্রান্স। অনেকের মতে, এই লড়াই বিশ্বকাপের আগাম ফাইনালেরই সমতুল্য। মঙ্গলবার গভীর রাতে হবে বহু প্রতীক্ষিত সেই মহারণ।
আবারও ত্রাতা মিকেল মেরিনো
বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে বারবার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন মিকেল মেরিনো। পর্তুগালের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের গোলের পর বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেও একই কীর্তি গড়লেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নেমে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যেই জালের ঠিকানা খুঁজে নেন।
রদ্রির দূরপাল্লার শট সহজেই ধরে ফেলার সুযোগ ছিল লেমেন্সের। কিন্তু বল তাঁর হাত ফসকে সামনে চলে আসে। ঠিক সেখানেই উপস্থিত ছিলেন মেরিনো। সুযোগ হাতছাড়া না করে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেন তিনি।
কুর্তোয়ার চোটে ভাঙল বেলজিয়ামের ভরসা
বেলজিয়ামের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ৭১ মিনিটে। অসাধারণ কয়েকটি সেভ করার পর ঊরুর পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অভিজ্ঞ গোলকিপার থিবো কুর্তোয়া। তাঁর বদলে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা সেন লেমেন্স শেষ মুহূর্তে যে ভুলটি করেন, সেটিই বেলজিয়ামের বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কুর্তোয়ার চোখে জল নিয়ে মাঠ ছাড়ার দৃশ্যও আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে। অনেকের ধারণা, এটাই হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।
ইয়ামালের দাপটে নড়বড়ে বেলজিয়ামের রক্ষণ
এই বিশ্বকাপে আগের কয়েকটি ম্যাচে লামিন ইয়ামাল নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা গেল তাঁর আসল রূপ। ডান প্রান্ত থেকে ধারাবাহিক ড্রিবল, গতি, নিখুঁত পাস এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেলজিয়ামের রক্ষণকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন তিনি।
গোল না পেলেও একাধিক সুযোগ তৈরি করেন এবং কয়েকবার নিজেও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচে তাঁর নামও গোলদাতাদের তালিকায় থাকত।
ফুয়েন্তের কৌশল সফল
এই ম্যাচে প্রথম একাদশে ফ্যাবিয়ান রুইজকে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নেন স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। পেদ্রিকে বেঞ্চে বসিয়ে রুইজকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত, যদি ফল অনুকূলে না আসত। কিন্তু রুইজ গোল করে সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেন।
মাঝমাঠে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণে অংশগ্রহণ এবং বলের দখল ধরে রাখার ক্ষমতা স্পেনকে বাড়তি সুবিধা দেয়। পুরো ম্যাচ জুড়েই স্পেনের পাসিং ফুটবল ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
শেষ হতে পারে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের অধ্যায়
এই হার হয়তো বেলজিয়ামের এক যুগের অবসানের ইঙ্গিতও দিয়ে গেল। থিবো কুর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনে, রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল উইটসেল, হান্স ভানাকেনদের মতো তারকাদের এটাই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। বহু প্রতিভা নিয়েও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হল না বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের।
এছাড়া মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসা ইউরি তিয়েলেম্যান্স ওয়ার্ম-আপে চোট পাওয়ায় খেলতেই পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠে ভারসাম্য হারায় বেলজিয়াম, যার প্রভাব পুরো ম্যাচেই স্পষ্ট ছিল।
এখন স্পেনের সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সকে হারাতে পারলেই বিশ্বকাপ ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত হবে লা রোজাদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?