সুন্দরবনের বাসিন্দাদের আবারও একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা। নতুন করে আসা ঘূর্ণিঝড় ডানা স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন ইতোমধ্যেই সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুন্দরবন কোস্টাল ও ঝড়খালী কোস্টাল থানার পক্ষ থেকে এলাকার দুর্বল নদীবাঁধগুলো নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
এখন থেকে সপ্তাহের মধ্যে, বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই সময়ে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর ফলে আবারও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যেই তারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

গোসবা, বাসন্তী, ঝড়খালী এবং সুন্দরবন কোস্টাল থানার প্রশাসন সোমবার থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সতর্ক করবে। মৎস্যজীবীদের জন্য নদী পথে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। যারা ইতোমধ্যে নদীতে মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়েছেন, তাদের আগামীকালকের মধ্যে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হবে।
আবহাওয়ার অবনতির কারণে যারা নদীর ধারে বসবাস করেন, তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের জন্য আয়লা বাড়ি বা পাকা স্কুলের বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন, কিন্তু প্রতিটি নতুন দুর্যোগ তাদের মনে নতুন আতঙ্ক তৈরি করে। পরিবেশ পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনবাসী আশা করছেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই দুর্যোগ থেকে তারা রক্ষা পাবেন।
এবারের ডানা আসলে কতটা ভয়াবহ হবে, তা এখনও বলা সম্ভব নয়, তবে সকলেই জানেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সতর্কতা এবং প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনবাসীর প্রার্থনা, এই দুর্যোগ যেন তাদের জীবনে নতুন করে ক্ষতি না ডেকে আনে।
4o mini