সীমান্তে প্রথম শান্ত রাত!
গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তে চরম উত্তেজনার পর অবশেষে রবিবার রাতটা ছিল অপেক্ষাকৃত শান্ত। নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে কোনও বড় ধরনের গোলাবর্ষণ বা সংঘর্ষের খবর মেলেনি। ভারতীয় সেনার মতে, এটি ছিল “গত কয়েক দিনের মধ্যে প্রথম শান্ত রাত”। এই শান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার দুপুরে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক পর্যায়ে দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা।
ভারতীয় সেনার তরফে রবিবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উদ্দেশে একটি ‘হটলাইন’ বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেই বার্তায় ১০ মে রাতে সংঘর্ষবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেনার দাবি, সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের দিক থেকে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। হটলাইন বার্তায় ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ দুই দেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক, অর্থাৎ ডিজিএমও (ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস) পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই শনিবার এক দফা আলোচনা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষ সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি মানার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। সূত্রের খবর, শনিবারের বৈঠকে শুধুই সংঘর্ষবিরতির বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। তবে সোমবারের আলোচনায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে আসতে পারে।
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জলবণ্টন চুক্তি দীর্ঘ দিন ধরেই একটি জ্বলন্ত বিষয়। বিশেষ করে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে সিন্ধু জলচুক্তি কার্যত স্থগিত করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবারের আলোচনায় এই বিষয়টি উঠে আসবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনটি প্রধান ইস্যু— সিন্ধু জলবণ্টন, সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ এবং কাশ্মীর পরিস্থিতি— আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে।
রবিবার সন্ধ্যায় ভারতের তিন বাহিনীর একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সেনার ডিজিএমও রাজীব ঘাই উপস্থিত ছিলেন। যদিও তিনি ভারতীয় পক্ষ থেকে আলোচনা প্রসঙ্গে ঠিক কী কী বিষয় তুলে ধরা হবে, তা খোলসা করেননি। তবে সামগ্রিক বার্তা ছিল স্পষ্ট— শান্তি বজায় রাখতে হলে সংঘর্ষবিরতির চুক্তি মেনে চলা জরুরি, এবং তা লঙ্ঘন হলে ভারত তার যথাযোগ্য জবাব দেবে।
এই আলোচনার ভবিষ্যৎ কী, তা সময় বলবে। কিন্তু সীমান্তে রবিবারের শান্ত পরিবেশ সাময়িক হলেও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এই ধরণের সামরিক পর্যায়ের আলোচনা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত উভয় দেশের নজর সোমবারের আলোচনার দিকেই। শান্তির পথে কতদূর এগোনো যায়, তা নির্ভর করবে কথাবার্তা কতটা বাস্তবসম্মত এবং সদিচ্ছায় ভরপুর তার উপর।