সীমান্তে কিমের ‘শব্দ দানব’: দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তি বিপন্ন

কিমের ‘শব্দ দানব’ উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে এবার উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন সীমান্ত এলাকায় নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করছেন—গগনবিদারী শব্দ। সীমান্তবর্তী অসামরিক…

November 19, 2024
1 min read

কিমের ‘শব্দ দানব’

উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে এবার উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন সীমান্ত এলাকায় নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করছেন—গগনবিদারী শব্দ। সীমান্তবর্তী অসামরিক অঞ্চলে (ডিমিলিটারাইজড জ়োন) ২৪ ঘণ্টা লাউডস্পিকারে বিকট শব্দ বাজিয়ে চলেছে উত্তর কোরিয়া। এসব শব্দের মধ্যে রয়েছে ধাতব ঘর্ষণের আওয়াজ এবং অস্বাভাবিক চিৎকার, যা স্থানীয় গ্রামবাসীদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।

শব্দ সন্ত্রাসের শিকার সীমান্তবাসী

ডাংসান নামের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে বাসিন্দাদের অবস্থা ভয়াবহ। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ভয়ঙ্কর শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। এক বৃদ্ধ বলেন, “এটি গোলাবারুদ ছাড়া বোমার মতোই আমাদের উপর আঘাত করছে।” শব্দ সহ্য করতে জানালায় স্টাইরোফোম লাগিয়ে রাখছেন অনেকে। দিনের বেলাতেও তারা ঘরের বাইরে বেরোতে পারছেন না। অধিকাংশ বাসিন্দা নিদ্রাহীনতা, মাথা যন্ত্রণা এবং মানসিক চাপজনিত রোগে ভুগছেন।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ এখনও জিইয়ে আছে। এর আগে কিম জং উনের সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় লাউডস্পিকার ব্যবহার করে প্রোপাগান্ডা ছড়াত। এবার সেই লাউডস্পিকার দিয়ে শুধুমাত্র বিকট শব্দ বাজিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে তারা।

পাল্টা প্রতিক্রিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার কার্যকলাপের জবাবে তিনি আমেরিকা এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক মহড়া জোরদার করেছেন। সিওল উত্তর কোরিয়ার এই শব্দ যুদ্ধকে একপ্রকার মানসিক নিপীড়নের অস্ত্র হিসেবে দেখছে এবং এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ জানাচ্ছে।

গবেষকদের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই কোরিয়ার এই উত্তেজনা নতুন করে যুদ্ধ বাধাতে পারে। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের প্রাক্তন প্রধান কোহ ইউ-হওয়ান বলেছেন, “দুই দেশকেই পুরনো চুক্তি মেনে চলতে হবে। নয়তো সীমান্তে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে।”

ভবিষ্যতের শঙ্কা

উত্তর কোরিয়া সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করেছে। তাদের কার্যকলাপ শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের নয়, গোটা অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করছে। সীমান্তের পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে সংঘাতের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সীমান্তে কিমের এই ‘শব্দ দানব’-এর তাণ্ডব প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও অশনি সংকেত।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *