সিঙ্গাপুরের চিনা রেস্তোরাঁয় ‘বিশেষ কর’!
সিঙ্গাপুরের চায়নাটাউনের এক চিনা রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে আপনাকে অতিরিক্ত খরচ করতে হতে পারে—তবে সেটা আপনি যদি মার্কিন নাগরিক হন! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। আমেরিকানদের জন্য খাবারের উপরে ১০৪ শতাংশ বাড়তি কর বসানোর ঘোষণা করে রীতিমতো চমকে দিল ওই রেস্তোরাঁ।
সম্প্রতি ‘শি লাও সং’ নামের ওই রেস্তোরাঁর সামনের দরজায় টাঙানো এক নোটিসের ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে ইংরেজি এবং চিনা ভাষায় লেখা, “৯ এপ্রিল থেকে এই রেস্তোরাঁয় আমেরিকানদের জন্য অতিরিক্ত ১০৪ শতাংশ কর প্রযোজ্য।” নোটিসটি সামনে আসার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্টটি ইতিমধ্যেই ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখেছেন, মন্তব্যের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১,৭০০।
এই কর বসানোর পিছনে কারণ কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা কেবল রেস্তোরাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়—বরং আমেরিকা ও চীনের চলমান ‘শুল্কযুদ্ধ’-এর একপ্রকার প্রতিক্রিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, চিনা পণ্যের উপর মোট ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। তার জবাবেই বেজিং আমেরিকান পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন উত্তপ্ত বাণিজ্য পরিস্থিতির মধ্যেই ‘শি লাও সং’-এর এই পদক্ষেপ যেন প্রতীকী প্রতিবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া কিন্তু একরকম নয়। কেউ কেউ রেস্তোরাঁর এই উদ্যোগকে “সাহসী প্রতিবাদ” হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, “জাতিগত বৈষম্যের চূড়ান্ত রূপ”। এমনকি কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে রেস্তোরাঁ কর্মীরা একজন গ্রাহকের জাতীয়তা নির্ধারণ করবেন?
সমালোচনার মুখে শেষমেশ বিতর্কিত নোটিস দুটি সরিয়ে নেয় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। যদিও এ নিয়ে তারা আর কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সিঙ্গাপুরের প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য
সিঙ্গাপুর সরকার সরাসরি মার্কিন পণ্যের উপর কোনও শুল্ক আরোপ করেনি। কিন্তু সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশই চিনা বংশোদ্ভূত। তাই চীন ও আমেরিকার বাণিজ্য বিরোধের অভিঘাত এখানকার স্থানীয় মনস্তত্ত্বে কিছুটা হলেও পড়ছে।
এদিকে আমেরিকা ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুরের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ হয়তো ভবিষ্যতে আরও দেখা যাবে।
শেষ কথা
‘শি লাও সং’-এর নোটিস হয়তো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক রাজনীতি কেবল রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—তা কখনও কখনও আমাদের ডিনার টেবিলেও ছায়া ফেলে। এখন দেখার, এই শুল্ক যুদ্ধের আঁচ আর কত দূর গড়ায়।