সিএবির হোটেল-বিতর্কে নতুন মোড়!
কলকাতা ক্রিকেটের অন্দরমহলের বিতর্ক এ বার আরও জটিল হয়ে উঠল। সিএবির হোটেল-সংক্রান্ত স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ঘিরে প্রাক্তন কমিটি সদস্য সুব্রত সাহা পাল্টা সরব হয়েছেন। অভিযোগকারী মহাদেব চক্রবর্তীর পাশাপাশি প্রাক্তন সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে টালা থানার ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেছেন সুব্রত।
মহাদেবের অভিযোগ, সুব্রত ‘এএসএল প্রাইম হোটেল এলএলপি’-র অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও সিএবি ওই হোটেলের সঙ্গে একাধিক বার চুক্তি করেছে এবং আর্থিক সুবিধা দিয়েছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সিএবির এথিক্স অফিসারের কাছে ১৬০ পাতার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুব্রতর দাবি, ২০২২ সালের মে মাসেই তাঁর হোটেলকে সিএবি অতিথি আপ্যায়নের কাজে ব্যবহার করেছিল। তখন তিনি সিএবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অভিষেক ডালমিয়া সভাপতি ছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, তখন যদি স্বার্থের সংঘাত থেকে থাকে, তা হলে সেই সময় কেন আপত্তি ওঠেনি?
অভিষেক অবশ্য সুব্রতর অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সুব্রতর বিরুদ্ধে তিনি কোনও অভিযোগ করেননি এবং তাঁকে অকারণে বিতর্কে জড়ানো হচ্ছে। ২০২২ সালে ওই হোটেলের সঙ্গে সিএবির কোনও লেনদেন হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তাঁর কাছে তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ওয়ার্ক অর্ডারে সভাপতির সই করার প্রশ্নও নেই; সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সচিব ও কোষাধ্যক্ষের ভূমিকা থাকে।
টালা থানাকে ঘিরেও অভিযোগ
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে টালা থানার প্রসঙ্গে। সুব্রতর দাবি, তাঁর ক্লাব বেলগাছিয়া ইউনাইটেডকে ঘিরে কিছু বিষয়ে টালা থানা চিঠি পাঠিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে থানাকে দিয়ে এই পদক্ষেপ করানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে অভিষেক ও মহাদেব রয়েছেন।
অভিষেক সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, টালা থানার কারও সঙ্গে তিনি কখনও কথা বলেননি এবং জীবনে ওই থানায়ও যাননি। অন্য দিকে, থানার বর্তমান ওসি প্রলয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তবেই মন্তব্য করতে পারবেন।
মহাদেবের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ
সুব্রত পাল্টা মহাদেবের বিরুদ্ধে ভুল হলফনামা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মহাদেব নিজের চাকরি নিয়ে সিএবিকে দেওয়া হলফনামায় এমন তথ্য দিয়েছিলেন, যা পরে কলকাতা পুলিশ ক্লাবের তরফে ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়। সেই কারণেই তাঁকে অ্যাপেক্স কাউন্সিল থেকে সরানো হয়েছিল বলে দাবি সুব্রতর।
মহাদেব অবশ্য এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, গত বছর এথিক্স অফিসার হোটেলটি নিয়ে একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা মানা হয়নি। সেই বিষয়টিই তিনি অভিযোগপত্রে তুলে ধরেছেন।
এখন গোটা বিতর্কের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ২৯ অগস্ট সন্ধ্যা ৭টার শুনানি। এথিক্স অফিসারের সামনে সেই শুনানিতে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির পরবর্তী ছবি স্পষ্ট হতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।