সিএবির বিরুদ্ধে ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ, সৌরভের দাবি— ‘সবই পরিকল্পিত’

সিএবির বিরুদ্ধে ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ! পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা (সিএবি)-র বিরুদ্ধে এ বার রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী সায়ন্তন সিংহ ইমেলের মাধ্যমে…

June 29, 2026
1 min read

সিএবির বিরুদ্ধে ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ!

পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা (সিএবি)-র বিরুদ্ধে এ বার রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী সায়ন্তন সিংহ ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেছেন, সিএবির এক সদস্যের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও তদন্ত বা পদক্ষেপের কথা তাঁকে জানানো হয়নি।

সায়ন্তনের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিএবির সদস্য অম্বরীশ মিত্র। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের ১৪ অগস্ট তিনি সিএবির সভাপতি, সচিব, ওম্বুডসম্যান, এথিক্স অফিসার এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছিলেন। সেই অভিযোগে স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার অনুরোধও করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্ত হয়েছে কি না বা কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি।

সিএবির বর্তমান সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগকারী গত বছরই নিজের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সৌরভের কথায়, “এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। আসন্ন বিশেষ সাধারণ সভার (এসজিএম) আগে পরিকল্পিতভাবে এই বিষয়গুলি সামনে আনা হচ্ছে।”

যদিও সায়ন্তনের বক্তব্য, তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এর আগে আর এক আইনজীবী সুমন কীর্তনিয়া একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু সেই ঘটনার পর তিনি নতুন করে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পাঠানো অভিযোগে সায়ন্তন দাবি করেছেন, অভিযোগ ওঠার পরও অম্বরীশ মিত্র বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন। তিনি বাংলা দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলেছেন এবং সিএবির বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তাঁর আর্জি, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া, পদমর্যাদার অপব্যবহার এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি, সিএবির কাছ থেকে এই অভিযোগের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে রিপোর্টও চাওয়া হোক।

অভিযোগপত্রে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে উঠতি ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ক্লাবে বা বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন ক্লাব গঠনের নামে টাকা নেওয়া, নির্বাচনী প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দলে ক্রিকেটার ঢোকানো, ম্যাচ বণ্টনে অনিয়ম এবং জাল নথি তৈরির অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসবের সমর্থনে কিছু হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের প্রতিলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগের জবাবে অম্বরীশ মিত্র জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম যে অভিযোগ হয়েছিল, তা পরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। এরপর নতুন কোনও অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁকে সিএবি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই এবং বর্তমানে তিনি সিএবির কোনও প্রশাসনিক পদে নেই, শুধুমাত্র কমিটির একজন সদস্য।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে একটি ‘অ্যান্টি-করাপশন হেল্পলাইন’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে সিএবির পক্ষ থেকেও একই দাবি জানানো হয়। সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সায়ন্তন তাঁর অভিযোগপত্রে লিখেছেন, খেলাধুলার পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখতে এবং তরুণ ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষায় এমন ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রয়োজন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *