সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ মহুয়াকে, বাইরে বিজেপির বিক্ষোভ! স্পিকারকে চিঠি, আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ মহুয়াকে স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে থাকার সময় হেনস্থার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, রাত পৌনে ১০টা নাগাদ নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক…

August 15, 2026
1 min read

সার্কিট হাউস ছাড়ার নির্দেশ মহুয়াকে

স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে থাকার সময় হেনস্থার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, রাত পৌনে ১০টা নাগাদ নদিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক ফোন করে তাঁকে ঘর ছেড়ে দিতে বলেন। সেই সময় সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনার পর রাতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লেখেন মহুয়া। পাশাপাশি, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

মহুয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তিনি কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে পৌঁছন। সাংসদ হিসাবে আগেও সেখানে থেকেছেন তিনি। তাঁর জন্য পরিচিত ঘরটিই বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং সন্ধ্যায় চা ও রাতের খাবারও দেওয়া হয়। কিন্তু রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে নদিয়ার এডিএম ফোন করে ঘর ছেড়ে দিতে বলেন বলে অভিযোগ তাঁর।

মহুয়া প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সার্কিট হাউসে নতুন করে ঘর বুকিং বন্ধ রাখার নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে তাঁকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে কেন জানানো হল? রাত ১০টা ৫২ মিনিটে জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে হোয়াট্‌সঅ্যাপে নির্দেশের কপি পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন সাংসদ। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, বার্ষিক সাফাই অভিযানের জন্য নতুন করে ঘর বুকিং বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মহুয়ার বুকিংটি নতুন হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।

এর মধ্যেই রাত ১১টা নাগাদ বাইরে থেকে স্লোগানের শব্দ শুনতে পান বলে দাবি করেছেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, সার্কিট হাউসের বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

স্পিকারকে লেখা চিঠিতে মহুয়া সাংসদদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, নিজের লোকসভা এলাকায় সাংসদরা সাধারণত সরকারি সার্কিট হাউসেই থাকেন। ফলে এ ভাবে রাতে তাঁকে ঘর ছাড়তে বলা এবং একই সময়ে বাইরে বিক্ষোভ চলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সশরীরে থানায় হাজিরার নির্দেশ রয়েছে মহুয়ার। সেই নির্দেশ মেনেই তিনি কৃষ্ণনগরে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে নিরাপত্তার কারণে ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদন প্রত্যাহার করতে হয় এবং হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁকে থানায় সশরীরে হাজির হতে বলা হয়।

মহুয়ার দাবি, কলকাতা হাই কোর্ট তদন্তে সহযোগিতার পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই অবস্থায় রাতের এই ঘটনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিয়োবার্তায়ও বিষয়টি তুলে ধরেন সাংসদ।

এ দিকে, তাঁর অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মহুয়ার শেয়ার করা একটি ভিডিয়োয় বিজেপির স্থানীয় এক নেতাকে বিক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। তবে ওই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।

ঘটনার পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হন। রাতের বেলা এক জন মহিলা সাংসদকে সার্কিট হাউস ছাড়তে বলা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি।

মহুয়া জানিয়েছেন, সোমবার লোকসভায় এ নিয়ে প্রিভিলেজ মোশন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা হাই কোর্টেও যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। ফলে সার্কিট হাউসের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন বনাম সাংসদের সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *