কলকাতায় দুই চুরির মামলায় ধরা পড়ল ছয় অভিযুক্ত!
কলকাতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শহরের পুলিশ কমিশনার যখন হঠাৎ রাস্তায় নামলেন, ঠিক সেই দিনই বড় সাফল্য পেল পুলিশ। প্রায় এক মাস আগের দুই পৃথক চুরির ঘটনায় মোট ছয় জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে চার জনই গুজরাতের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে Kolkata Police।
এই ঘটনাকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের খুঁজছিলেন।
গুজরাত থেকে এসে কলকাতায় চুরি
লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ‘ওয়াচ’ শাখার অফিসাররা হেস্টিংস এলাকা থেকে চার অভিযুক্তকে আটক করেন। তাঁদের নাম অনিল রামজু সালত, ধীরু কালোভাই সালত, সমীরভাই সালত এবং রাজু কুমার। চার জনেরই বাড়ি গুজরাতের আনন্দ জেলায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি জোড়াসাঁকো থানায় একটি চুরির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে প্রায় এক মাস ধরে অভিযুক্তদের গতিবিধি নজরে রাখছিলেন তদন্তকারীরা। অবশেষে শনিবার অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
পার্ক সার্কাস থেকে ধরা আরও দুই অভিযুক্ত
একই দিনে আরেকটি চুরির মামলায় দুই জনকে পাকড়াও করে পুলিশ। পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে ধরা পড়ে মহম্মদ শাহনওয়াজ ওরফে সানি এবং মহম্মদ সামির। তাঁরা এন্টালির বাসিন্দা।
এই মামলাটি গিরিশ পার্ক থানায় দায়ের হয়েছিল গত মাসের ২০ তারিখ। অভিযোগ, এক ক্যাব চালক গাড়ির ভিতর ঘুমিয়ে থাকার সময় তাঁর মোবাইল ফোন, টাকার ব্যাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করা হয়। তদন্তের পর পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে এবং শনিবার গ্রেফতার করে।
সিপির নির্দেশের ফল?
সম্প্রতি মাসিক অপরাধ দমন বৈঠকে শহরের পুলিশ কমিশনার Supratim Sarkar স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন— দিনের ব্যস্ত সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান টহল বাড়াতে হবে।
এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিজে চোখে দেখতে শনিবার আচমকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেন তিনি। সেই “সারপ্রাইজ় ভিজ়িট”-এর দিনেই দুই মামলায় ছয় অভিযুক্তের গ্রেফতারি পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকেই।
আদালতে পেশের প্রস্তুতি
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ছয় জনকেই রবিবার আদালতে হাজির করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শহরে চুরি ও ছোটখাটো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও জারি থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই ঘটনায় স্পষ্ট— দ্রুত তদন্ত, নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা থাকলে অপরাধীদের ধরা সম্ভব, আর সেটাই দেখাল কলকাতা পুলিশের সাম্প্রতিক এই অভিযান।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই