মন খারাপ জোকোভিচের
ইউএস ওপেনে ইতিহাস গড়লেন নাওমি ওসাকা। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন কোকো গফকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে সাড়ে চার বছর পর আবারও গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেন এই জাপানি তারকা। ১৬৫৮ দিনের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওসাকার এই জয় যেন নতুন প্রেরণা দিল টেনিসপ্রেমীদের।
আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে ৬-৩, ৬-২ সেটে গফকে হারালেন তিনি। ওসাকার দুরন্ত সার্ভিস এবং শক্তিশালী ফোরহ্যান্ডে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যান প্রতিপক্ষ। এই জয়ের পর ওসাকা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০-এ ফিরে এলেন। হার্ড কোর্টে তাঁর দক্ষতার প্রমাণ মিলল আরও একবার। উল্লেখযোগ্য, ২০১৯ সালের ইউএস ওপেনে ১৫ বছরের গফকে প্রথমবার হারিয়েছিলেন ওসাকা। এবারও ২৭ বছরের অভিজ্ঞতায় ভর করে তিনি ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করলেন।
মেয়ের জন্মের পর কোর্টে ফিরে আসা ওসাকার জন্য এটি আবেগঘন মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “দু’মাস বয়সি মেয়েকে কোলে নিয়ে গ্যালারিতে বসে গফকে খেলতে দেখেছিলাম। তখনই স্বপ্ন দেখেছিলাম আবার এই কোর্টে ফিরব। আজ সেই স্বপ্ন পূর্ণ হলো।” এবার তাঁর প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্রের একাদশ বাছাই ক্যারোলিনা মুচোভা।
মুচোভার ইউএস ওপেন যাত্রা নাটকীয়তায় ভরা। দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রাক্তন প্রেমিককে দর্শকাসনে দেখে মানসিক চাপে কেঁদে ফেলেন তিনি। কিন্তু মানসিক বাধা কাটিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন এবং শেষ আটে জায়গা করে নেন। তাই ওসাকার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
মহিলাদের অন্য ম্যাচে, বিশ্ব টেনিসের তারকা ইগা শিয়নটেকও স্ট্রেট সেটে (৬-৩, ৬-১) সহজ জয় পেলেন রাশিয়ার ইকাটেরিনা আলেকজ়ান্দ্রোভার বিরুদ্ধে। শক্তিশালী সার্ভিস রিটার্নে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেননি তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ আমেরিকার অষ্টম বাছাই আমান্ডা আনিসিমোভা।
পুরুষদের দলে ইয়ানিক সিনার দেখালেন দাপট। কাজাখস্তানের আলেকজ়ান্ডার বুবলিককে মাত্র তিনটি গেম হারিয়ে (৬-১, ৬-১, ৬-১) উড়িয়ে দেন তিনি। দুরন্ত সার্ভিস ও পাওয়ার টেনিসে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিলেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। এবার শেষ আটে মুখোমুখি হবেন লোরেঞ্জো মুসেত্তির, অর্থাৎ ইটালির দুই তারকার লড়াই হবে।
এদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে আগেই জায়গা করে নিয়েছেন ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী নোভাক জোকোভিচ। প্রতিপক্ষ চতুর্থ বাছাই টেলর ফ্রিৎজ়। তবে টেনিস তারকার মন খারাপ। ২ সেপ্টেম্বর তাঁর মেয়ে তারার জন্মদিন। পরিবারের সঙ্গে উদযাপনের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। কোর্টে না থেকেও মেয়ে বাবার উপর অভিমান করেছে। জোকোভিচ বলেন, “মেয়েকে জন্মদিনে কাছে না পেয়ে মন খারাপ লাগছে। তবে ওর জন্যই লড়ব।”
ইউএস ওপেনের প্রতিটি ম্যাচে জয় পেলে র্যাকেট দিয়ে বেহালার ভঙ্গিতে উদ্যাপন করছেন জোকোভিচ, কারণ তারা শিখছে বেহালা। তাই ফ্রিৎজ়ের বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুধু তাঁর পেশাদারি নয়, এক বাবার আবেগেরও প্রতিফলন হবে।
ওসাকার প্রত্যাবর্তন, মুচোভার নাটকীয় জয়, শিয়নটেক ও সিনারের দাপট এবং জোকোভিচের আবেগ—সব মিলিয়ে ইউএস ওপেন জমে উঠেছে নতুন রঙে। এই প্রতিযোগিতা প্রমাণ করছে, টেনিস কেবল খেলা নয়, তা জীবনের গল্পও বটে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ