সাঁতার কাটতে গিয়েই জলেই মৃত্যু জ়ুবিন গার্গের, সিঙ্গাপুরের ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হল আসল কারণ

সাঁতার কাটতে গিয়েই জলেই মৃত্যু জ়ুবিন গার্গের! অবশেষে প্রকাশ্যে এল সদ্যপ্রয়াত গায়ক জ়ুবিন গার্গের মৃত্যুর আসল কারণ। গত কয়েক দিন ধরে নানা গুঞ্জন ঘুরে বেড়াচ্ছিল তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে— কেউ বলেছিলেন…

October 3, 2025
1 min read

সাঁতার কাটতে গিয়েই জলেই মৃত্যু জ়ুবিন গার্গের!

অবশেষে প্রকাশ্যে এল সদ্যপ্রয়াত গায়ক জ়ুবিন গার্গের মৃত্যুর আসল কারণ। গত কয়েক দিন ধরে নানা গুঞ্জন ঘুরে বেড়াচ্ছিল তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে— কেউ বলেছিলেন স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনা, কেউ বলেছিলেন অসাবধানতার ফল। কিন্তু শুক্রবার সিঙ্গাপুর সরকারের প্রকাশিত ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পরিষ্কার হয়ে গেল সব রহস্য। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় নয়, বরং সিঙ্গাপুরের একটি দ্বীপে সাঁতার কাটতে গিয়েই জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অসমের জনপ্রিয় গায়কের।

বৃহস্পতিবার থেকেই এই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, আর শুক্রবার তার সরকারি সিলমোহর মেলে। সিঙ্গাপুর সরকার ময়নাতদন্তের নথি তুলে দিয়েছে গায়কের স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গের হাতে। একই সঙ্গে সেই রিপোর্ট এবং তার ভিত্তিতে তৈরি প্রাথমিক অনুসন্ধানের একটি কপি ভারতীয় হাই কমিশনকেও দিয়েছে সিঙ্গাপুর পুলিশ বাহিনী।

প্রসঙ্গত, ভারত-সিঙ্গাপুর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি এবং ‘আসিয়ান পর্যটন বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই গিয়েছিলেন জ়ুবিন। কিন্তু সেই সফরই পরিণত হল তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়ে।

সিঙ্গাপুর প্রশাসন জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিলেও পুলিশি তদন্ত এখনও চলছে। তাই তারা অনুরোধ করেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কোনও ছবি বা ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাগ না করতে। তদন্তের শুরু থেকেই নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার।

এই তদন্তের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুর পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। একইসঙ্গে অসম পুলিশও এই মৃত্যুর ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে এখন পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে। প্রথমে আটক হন গার্গের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত। পরে সঙ্গীতশিল্পী শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং গায়িকা অমৃতপ্রভা মহন্তকেও গ্রেফতার করা হয়।

গায়কের স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গ এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট কিনা, তা এখনও জানা যায়নি। তবে তিনি আগেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর একদিন আগে, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে জ়ুবিনের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। সেই সময়ও তিনি দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনার কোনও কথা বলেননি। গরিমার ধারণা, বিষয়টি আচমকাই ঠিক হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “যে মানুষটি দিনে ঘুমোন, তাঁকে এ ভাবে টেনে নিয়ে যাওয়ার কি খুব দরকার ছিল? ওঁর আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ কেন বাধা দেননি?” গরিমা আরও জানান, জ়ুবিন দীর্ঘদিন ধরে মৃগীর সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধও খেতেন। তাঁর আপ্তসহায়ক তাঁকে জানিয়েছিলেন, জলের নীচে নাকি খিঁচুনি শুরু হয়েছিল জ়ুবিনের। চিকিৎসাশাস্ত্রে মৃগী রোগীদের জলাশয়ের কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ, আর গরিমার মতে, সেই সতর্কতা না মানাই হয়তো প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তাঁর স্বামীকে।

এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, তা থেকে স্পষ্ট— জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিতই, কোনও নাশকতা নয়। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আপাতত তাঁর অনুরাগীরা একটাই আশায়— প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুর সব রহস্য যেন দ্রুত উন্মোচিত হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অসমের সংগীতজগতের এই কিংবদন্তির আকস্মিক মৃত্যু এখনও ভোলেনি কেউ। তাঁর কণ্ঠস্বর চিরকাল বেঁচে থাকবে লক্ষ লক্ষ শ্রোতার হৃদয়ে, আর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার অপেক্ষায় দিন গুনছে গোটা দেশ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *