জুবিন গার্গের শোকে স্তব্ধ অসম!
অসমের আকাশে এখনও ছায়া নেমে আছে জুবিন গার্গের প্রয়াণের শোকের। রাজ্যের প্রিয় সন্তানের চলে যাওয়ার পর থেকেই যেন উৎসবের আবহে এক অদৃশ্য ভার নেমে এসেছে। দুর্গাপুজোর সময় ঘনিয়ে এলেও অসম এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতেই নিজের বাড়ির ঐতিহ্যবাহী পুজো ফেলে অসমের উদ্দেশে রওনা দিলেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়।
ভাস্বরের পৈতৃক বাড়ি বাঁকুড়ায়। সেখানে নিয়ম মেনে প্রতি বছর হয় দুর্গাপুজো, আর এবারে সেই পুজোর বয়স ৮১ বছর। প্রতিবারই বাবা এবং পরিবারের সঙ্গে উপস্থিত থাকেন অভিনেতা। তবে এ বছর সেই ধারায় ছেদ পড়ল। কেন? বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে আনন্দবাজার অনলাইনের প্রশ্নের জবাবে ভাস্বর বললেন, “দেশের বাড়ি যেতে অনেকটা পথ গাড়িতে পাড়ি দিতে হয়। বাবা এখন আর সেই ধকল নিতে পারেন না। তাছাড়া, অনেক দিন হল আমরা একসঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাইনি। তাই ঠিক করলাম এ বার অসম যাব। পাশাপাশি মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি-সহ কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখব। তারপর কামাখ্যা দেবীর মন্দিরেও যাব।”
অভিনেতা আরও জানান, এর আগেও দু’-একবার দুর্গাপুজোর সময় তিনি শহরে ছিলেন না। তখনও বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ বছরও সেই ধারা বজায় রেখেছেন। তবে এবারের সফরের আবহ একেবারে আলাদা। জুবিন গার্গের মৃত্যুর পর অসমের প্রতিটি ঘরে যেন সন্তান হারানোর ব্যথা। “ওখানে এখনও কেউ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি। প্রত্যেকের চোখে এক ধরনের শোক আর শূন্যতা দেখতে পাচ্ছি,” বললেন ভাস্বর।
এই অবস্থায় সেখানে দুর্গাপুজো আদৌ ঠিক মতো পালিত হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে অভিনেতার মনে। “আমি নিজেও নিশ্চিত নই, এ বছর দেবীর আরাধনা আদৌ হবে কিনা। যতক্ষণ না সেখানে পৌঁছচ্ছি, কিছুই বলতে পারব না,” সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি।
প্রতিবারের মতো এবারে আর ধুতি-পাঞ্জাবির ঝক্কি নেই। মৃদু হেসে ভাস্বর বললেন, “এ বছর শার্ট-ট্রাউজার আর গরম পোশাকে থাকব। পুরো আবহটাই আলাদা।” এমনকি খাবারদাবারেও আসবে পরিবর্তন। পুজোর ভোগ, নানা রকম নিরামিষ পদ, মিষ্টি — এসবের জায়গা নেবে অসমের স্থানীয় জনপ্রিয় খাবার।
ভাস্বরের এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন তাঁর পরিবারের পুরনো রীতির বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে তেমনই প্রমাণ করে একজন শিল্পীর সংবেদনশীল মনও। যখন কোনও অঞ্চলের মানুষ গভীর শোকের মধ্যে, তখন সেখানে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই হয়তো ভাস্বর জানাতে চাইছেন, তাঁদের দুঃখেও তিনি সঙ্গী।
জুবিন গার্গ শুধু অসমের নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গীত জগতের এক অনন্য মুখ। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে রাজ্যজুড়ে যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই সেখানে পা রাখতে চলেছেন ভাস্বর। এবার দুর্গাপুজোর সাজপোশাক, আচার অনুষ্ঠান সব কিছুই বদলে যাবে তাঁর। কিন্তু তবুও এ বছরের পুজোর স্মৃতি তাঁর জীবনে থেকে যাবে আলাদা জায়গায় — কারণ এটি কেবল এক পুজো নয়, বরং এক সংহতির বার্তা।
বাড়ির ৮১ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুজো থেকে দূরে থাকলেও, অসমে গিয়ে জুবিনের শোকাহত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এ বছর নিজের পুজোর পূর্ণতা খুঁজবেন অভিনেতা।
‘সত্যমেব জয়তে’! দিল্লি হাই কোর্ট আবেদন খারিজ, সমীরের মন্তব্যে নতুন ইঙ্গিত?