সলমন রুশদির উপর হামলা!
বিশ্ববিখ্যাত লেখক সলমন রুশদির উপর হামলা চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন হাদি মাতার। ২০২২ সালে নিউ ইয়র্কের এক সাহিত্য উৎসবে মঞ্চে উঠে এলোপাথাড়ি ছুরি চালিয়ে রুশদিকে গুরুতর আহত করেছিলেন এই যুবক। আমেরিকার আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, যদিও শাস্তি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আগামী ২৩ এপ্রিল নিউ ইয়র্কের আদালত হাদির শাস্তির মেয়াদ ঘোষণা করবে। আইনের বিধি অনুযায়ী, ন্যূনতম ৩০ বছর জেল হতে পারে তাঁর।
কী হয়েছিল সেই দিন?
২০২২ সালের ১২ আগস্ট নিউ ইয়র্কের চটোকোয়া ইনস্টিটিউশনে একটি সাহিত্য উৎসবে বক্তব্য রাখার জন্য মঞ্চে উঠেছিলেন বুকারজয়ী লেখক সলমন রুশদি। দর্শকদের মাঝ থেকে উঠে এসে ২৭ বছর বয়সি হাদি মাতার আচমকা মঞ্চে ঝাঁপিয়ে পড়েন। রুশদির ঘাড়, মুখ, বুকে এবং হাতে পরপর ১৫ বার ছুরির কোপ বসান। রক্তাক্ত অবস্থায় মঞ্চেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ঘটনার পরই তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বহুদিন ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল তাঁকে। এই নৃশংস হামলার ফলে রুশদি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং তাঁর এক হাত কার্যত অকেজো হয়ে গেছে।
কেন এই হামলা?
১৯৮৮ সালে প্রকাশিত সলমন রুশদির বিতর্কিত উপন্যাস The Satanic Verses ইরান-সহ মুসলিম বিশ্বের একাংশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। ইসলাম অবমাননার অভিযোগ এনে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেনি রুশদির বিরুদ্ধে ‘ফতোয়া’ জারি করেছিলেন এবং তাঁর হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর প্রায় ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয় রুশদিকে। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রকাশ্যে এলেও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালের হামলার দিন নিরাপত্তা কিছুটা শিথিল ছিল, আর সেই সুযোগেই মাতার মঞ্চে উঠে প্রাণঘাতী আক্রমণ চালান।
আদালতের রায় কী বলছে?
নিউ ইয়র্কের আদালতে হাদির বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রুশদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানোর অভিযোগ ছাড়াও,
- মঞ্চে থাকা সাক্ষাৎকারগ্রহীতা হেনরি রিসকেও তিনি ছুরির আঘাত করেছিলেন।
- ফলে, সশস্ত্র হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
- আমেরিকার আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি ন্যূনতম ৩০ বছর কারাদণ্ড।
রুশদির বর্ণনায় সেই ভয়ংকর রাত
বিচার চলাকালীন সলমন রুশদি স্বয়ং আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং হামলার সেই মুহূর্তের ভয়াবহতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন,
“আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, কেউ আমাকে ঘুষি মারছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বুঝতে পারি, ছুরির আঘাত লাগছে। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৫ বার কোপ মেরে ফেলা হয়েছিল।’’
রুশদির আইনজীবীরা আদালতে জানান, এই হামলা পরিকল্পিত ছিল এবং ইরানের সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে। যদিও হাদি মাতার আদালতে বলেন, তিনি ইরানের কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন, কিন্তু রুশদির বই নিয়ে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন।
শেষ কথা
হাদি মাতারের বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতের এই রায় অভিব্যক্তির স্বাধীনতার ওপর হামলার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তবে এই রায়ের ফলে রুশদির মতো লেখকদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি সচেতন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ২৩ এপ্রিল ঘোষিত হবে হাদির চূড়ান্ত শাস্তি। তবে আমেরিকার কঠোর আইনের ভিত্তিতে তাঁর কমপক্ষে ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষণার আড়ালে সামরিক পরিকল্পনা? সমুদ্রের গভীরে চিনের রহস্যময় কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ