সরস্বতী পুজোর দিনে স্কুলের সামনে ইভটিজিং! প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর বাবাকে মারধর রামরাজাতলায়

সরস্বতী পুজোর দিনে স্কুলের সামনে ইভটিজিং! সরস্বতী পুজোর মতো শুভ দিনে রামরাজাতলায় ঘটে গেল এক নিন্দনীয় ঘটনা। গার্লস স্কুলের সামনে একদল নাবালকের ইভটিজিংয়ের শিকার হলেন কয়েকজন ছাত্রী, আর প্রতিবাদ করায়…

February 3, 2025
1 min read

সরস্বতী পুজোর দিনে স্কুলের সামনে ইভটিজিং!

সরস্বতী পুজোর মতো শুভ দিনে রামরাজাতলায় ঘটে গেল এক নিন্দনীয় ঘটনা। গার্লস স্কুলের সামনে একদল নাবালকের ইভটিজিংয়ের শিকার হলেন কয়েকজন ছাত্রী, আর প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হতে হলো এক অভিভাবককে। সোমবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

কী ঘটেছিল সেদিন?

সোমবার দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টা। রামরাজাতলার এক গার্লস স্কুলের সামনে জটলা করতে দেখা যায় তিন নাবালককে, যারা একটি স্কুটি নিয়ে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করছিল। অভিযোগ, তারা স্কুলের ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করছিল এবং অশালীন আচরণ করছিল।

ঠিক সেই সময় এক দশম শ্রেণির ছাত্রী তার বাবার সঙ্গে স্কুলে সরস্বতী পুজো দেখতে এসেছিল। ওই নাবালকরা সেই ছাত্রীকেও লক্ষ্য করে কটূক্তি করলে তার বাবা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু সেই প্রতিবাদের জবাবে নাবালকেরা পাল্টা আক্রমণ করে ওই অভিভাবকের উপর। অভিযোগ, তারা তাঁর মাথায় আঘাত করে এবং রাস্তায় ফেলে মারধর করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, স্কুলের সামনে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়।

পুলিশি হস্তক্ষেপ ও উত্তেজনা

স্থানীয় বাসিন্দারা ও অন্যান্য অভিভাবকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর মধ্যেই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দু’জনকে ধরে ফেলে এবং তাদের গণপিটুনি দেয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তৃতীয় অভিযুক্ত তখনও পলাতক ছিল, পুলিশ তাকে খুঁজতে তল্লাশি শুরু করে।

অভিভাবকদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ

এই ঘটনার পর স্কুলের চারপাশে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা স্কুলের সামনে জড়ো হন। তাদের বক্তব্য, সরস্বতী পুজোর মতো দিনে, যেখানে মেয়েরা আনন্দ করতে আসে, সেখানে যদি এভাবে ইভটিজিং এবং হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা কতটা নিরাপদ? তারা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন এবং প্রশাসনের কাছে স্কুলের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আর্জি জানান।

এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে যেখানে ছাত্রীদের নির্ভয়ে চলাফেরা করার কথা, সেখানে ইভটিজিং এবং অভিভাবকদের উপর হামলা এক চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই ধরনের অপরাধ কবে বন্ধ হবে? মেয়েরা কি সত্যিই নিরাপদ? অভিভাবকদের এই আতঙ্ক দূর করতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে?

এখন দেখার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

গোটা রান্না: সরস্বতী পুজোয় পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য, চচ্চড়ির স্বাদে নতুনত্ব

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *