সম্পর্কে ‘তৃতীয় ব্যক্তি’ কি বিবাহ ভাঙার একমাত্র কারণ?
প্রেম, বিবাহ এবং প্রতারণা— এই তিনটি শব্দ যুগে যুগে সমাজে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ কি সব সময়েই বিচ্ছেদের কারণ হওয়া উচিত, নাকি একটি ভুলকে ক্ষমা করে নতুন করে শুরু করা সম্ভব? এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর আজও নেই। সম্প্রতি অভিনেতা রাম কপূর মন্তব্য করেছেন, প্রতারণা মানেই সম্পর্কের সমাপ্তি নয়; কখনও কখনও মানুষ ভুল করতেই পারে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
অনেকের মতে, বিবাহ বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে সম্পর্ক আর আগের জায়গায় ফেরে না। আবার অন্যদের দাবি, প্রতিটি সম্পর্কের বাস্তবতা আলাদা। কোথাও একটি ভুল ক্ষমা করে সম্পর্ক আরও পরিণত হয়, আবার কোথাও সেই আঘাত মুছে ফেলা সম্ভব হয় না।
এই বিতর্কে বিভিন্ন শিল্পীর মতও ভিন্ন। অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, প্রতারণার সঙ্গে কোনও আপস করা যায় না। তাঁর মতে, যিনি একবার বিশ্বাস ভাঙেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রশ্নই ওঠে না। অন্যদিকে অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা মনে করেন, অনেক দম্পতিই দ্বিতীয় সুযোগ দিয়ে সুখে সংসার করছেন। তাঁর কথায়, সব প্রতারণার পেছনের কারণ এক নয়; কখনও তা ক্ষণিকের মোহ, আবার কখনও তা অভ্যাসগত আচরণ।
অভিনেতা ঋষি কৌশিকও বিশ্বাসকে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, অনেকে নানা কারণে সম্পর্ক ভাঙেন না ঠিকই, কিন্তু বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে সেই সম্পর্ক আর আগের মতো থাকে না।
অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতারণা শুধু সম্পর্ক ভাঙে না, সঙ্গীর প্রতি অসম্মানও প্রকাশ করে। তাই তাঁর অভিধানে তৃতীয় ব্যক্তির কোনও জায়গা নেই। একই মত অভিনেতা সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়-এরও। তিনি মনে করেন, একগামী সম্পর্কে প্রতারণা বিয়ে ভাঙার জন্য যথেষ্ট কারণ।
তবে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা আলাদা। এখন সম্পর্কের নানা রূপ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘বেঞ্চিং’, ‘ব্রেডক্রাম্বিং’-এর মতো নতুন শব্দ যেমন এসেছে, তেমনই সম্পর্কের সীমারেখা নিয়েও সচেতনতা বেড়েছে। অভিনেতা ঋতব্রত মুখোপাধ্যায় মনে করেন, বর্তমান প্রজন্ম সম্পর্ক থেকে কী চায়, সে বিষয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট। অনেকেই অসুখী দাম্পত্যে জড়াতে চান না বলেই বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তেও সতর্ক থাকেন।
বলিউডেও এই প্রসঙ্গে নানা মত রয়েছে। অভিনেত্রী রাধিকা আপ্টে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সম্পর্ককে শুধুমাত্র সাদা-কালো দিয়ে বিচার করা যায় না; এর মধ্যে বহু ধূসর অঞ্চল রয়েছে। অন্যদিকে অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূর মনে করেন, শারীরিক হোক বা মানসিক— যে কোনও ধরনের প্রতারণাই সমানভাবে কষ্টদায়ক।
আলোচনায় আরেকটি প্রশ্নও উঠে আসে— প্রতারণার ধরন কি আলাদা? কেউ কেউ মনে করেন, শারীরিক সম্পর্কের চেয়ে মানসিকভাবে অন্য কারও সঙ্গে জড়িয়ে পড়া আরও বড় সংকট তৈরি করে। আবার অনেকে এই বিভাজন মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, বিশ্বাস ভাঙার কোনও শ্রেণিবিভাগ হয় না।
বাস্তবের সম্পর্কের সমীকরণ তাই একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কেউ বিশ্বাসঘাতকতাকে ক্ষমা করতে পারেন, কেউ পারেন না। কারও কাছে একটি ভুল সম্পর্কের শেষ, আবার কারও কাছে সেটিই নতুন করে শুরু করার সুযোগ।
তাই প্রশ্নটি আজও খোলা রয়ে গেছে— তৃতীয় ব্যক্তির আগমন কি বহু বছরের সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, নাকি ভালোবাসা, পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া অনেক সময় সেই ভাঙনও মেরামত করতে পারে? এর কোনও সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর নেই। কারণ, সম্পর্কের সমীকরণ শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে সেই দুই মানুষের উপর, যাঁরা সম্পর্কটি বাঁচিয়ে রাখতে বা শেষ করে দিতে চান।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?