সমুদ্রে আটক রুশ ট্যাঙ্কার!
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে। প্রশ্ন উঠছে— ভেনেজ়ুয়েলার পর এ বার কি সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে শক্তি পরীক্ষায় নামতে চলেছে আমেরিকা? ‘বেলা-১’ ওরফে ‘মেরিনেরা’ নামের রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারটিকে আটকে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে সেই জল্পনাই দানা বাঁধছে।
টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে নজরদারি চালানোর পর মার্কিন বাহিনী উত্তর আটলান্টিকে ট্যাঙ্কারটিকে আটক করে। অভিযানের নেতৃত্বে ছিল মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড, সঙ্গে ছিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং সেনাবাহিনী। আমেরিকার দাবি, পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে অবৈধ ভাবে তেল পরিবহণ করছিল এই জাহাজ। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানানো হয়, মার্কিন ফেডারেল আদালতের জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের মতে, রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজ়ুয়েলা মিলে একটি ‘ভূতুড়ে বহর’ তৈরি করেছে— যে সব জাহাজ বছরের পর বছর ধরে নাম, পতাকা ও রুট বদলে সস্তা জ্বালানি সরবরাহ করে চলেছে। মেরিনেরাও সেই বহরেরই অংশ। ডিসেম্বর মাসে ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজ়ুয়েলার কাছে মার্কিন উপকূলরক্ষীরা জাহাজটিকে থামাতে চাইলেও নির্দেশ মানেনি ট্যাঙ্কারটি। উল্টে নাম বদলে এবং রুট ঘুরিয়ে আটলান্টিকের দিকে পালানোর চেষ্টা করে।
ধাওয়ার সময় নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। ট্যাঙ্কারে রাশিয়ার পতাকা টাঙানো হয় এবং দাবি করা হয়, তারা রুশ সুরক্ষার আওতায় চলছে। পরে রাশিয়ার জাহাজ রেজিস্টারেও নথিভুক্ত হয় মেরিনেরা। মস্কোর তরফে কূটনৈতিক অনুরোধ জানানো হয় যেন আমেরিকা অভিযান বন্ধ করে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সেই অনুরোধ মানেনি। উল্টে জাহাজটিকে ‘রাষ্ট্রহীন’ বলে দাবি করে অভিযান চালিয়ে যায়।
দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উত্তাল আটলান্টিকে ধাওয়া শেষে আইসল্যান্ডের কাছাকাছি ট্যাঙ্কারটিকে আটক করা হয়। ওই এলাকায় রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ও একটি ডুবোজাহাজ উপস্থিত থাকার খবর মিললেও তারা কতটা কাছে ছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবু ঘটনাটি যে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছতে পারত, তা মানছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
মস্কো ইতিমধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। রাশিয়ার দাবি, এটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের লঙ্ঘন। এক বর্ষীয়ান রুশ নেতা একে সরাসরি ‘জলদস্যু কার্যকলাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রুশ পরিবহণ মন্ত্রক মনে করিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সমুদ্র আইন অনুযায়ী সমুদ্রে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রয়েছে। অন্য দিকে, ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারে থাকা রুশ কর্মীদের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরানোর বিষয়টি তারা দেখছে।
এই অভিযানে ব্রিটেনের সহযোগিতার কথা শোনা গেলেও ১০ ডাউনিং স্ট্রিট মুখ খুলতে চায়নি। সব মিলিয়ে, ভেনেজ়ুয়েলার উপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্লাদিমির পুতিন সরকারকে বার্তা দিতেই কি এই পদক্ষেপ? নাকি সত্যিই সম্মুখসমরের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে ওয়াশিংটন? উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়, তবে উত্তর আটলান্টিকের এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার অধ্যায় যে শুরু করে দিল, তা বলাই যায়।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি