সমুদ্রের গভীরে চিনা ডুবোজাহাজের বিরুদ্ধে ভারতের নতুন অস্ত্র!
ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বৃদ্ধিতে বড় সাফল্য এল। সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও সফলভাবে পরীক্ষা করেছে ‘বর্ধিত পাল্লার ডুবোজাহাজ ধ্বংসকারী রকেট’ (ইআরএএসআর)। এই রকেট জলতলের গভীরে লুকিয়ে থাকা শত্রু ডুবোজাহাজকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আগ্রাসন রুখতে ভারতের হাতে এক নতুন হাতিয়ার যোগ হল।
চলতি বছরের ২৩ জুন থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত আইএনএস কাভারাত্তি নামের নৌসেনার একটি করভেট থেকে মোট ১৭টি রকেট উৎক্ষেপণ করে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রকেট নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এর পাল্লা এবং বিস্ফোরক ক্ষমতা প্রকাশ্যে না আনলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, এই রকেট ভারতীয় রণতরীতে থাকা প্রচলিত লঞ্চার থেকেই ছোড়া যাবে। নতুন কোনও যন্ত্রাংশ বসানোর প্রয়োজন পড়বে না।
ইআরএএসআরের নকশা এবং নির্মাণে যুক্ত ছিল ডিআরডিও-র পুণে শাখা, হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস ল্যাবরেটরি এবং নেভাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ল্যাবরেটরি। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দুটি শক্তিশালী রকেট মোটর এবং ইলেকট্রনিক টাইম ফিউজ, যা নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হানার নিশ্চয়তা দেয়। খুব শীঘ্রই এই রকেট ভারতীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন রণতরীতে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রকেট তৈরি করবে হায়দরাবাদের ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড এবং নাগপুরের সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড।
চিনের নৌবাহিনীর নজরদারি ও সামরিক প্রভাব বাড়ছে ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে। চিনের ‘স্ট্রিং অফ পার্লস’ নীতি অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার এবং পাকিস্তানের বন্দরগুলিকে ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করে ভারতের চারপাশে নিজেদের ঘেরাটোপ তৈরি করছে বেজিং। এর মোকাবিলায় ভারত চালু করেছে ‘ডায়মন্ড নেকলেস’ নীতি— ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে শুরু করে ওমান, সেসেলস, মরিশাস ও ভিয়েতনামে ভারত নৌঘাঁটি স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
এছাড়া, ডিআরডিও ডুবোজাহাজ থেকে উড়ন্ত ড্রোন উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি তৈরির কাজেও এগিয়েছে। এই প্রযুক্তি পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতীয় স্টার্টআপ সংস্থা সাগর ডিফেন্সের সঙ্গে মিলে এই উদ্যোগ চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে শত্রুর নজর এড়িয়ে অত্যাধুনিক সামরিক অভিযান চালাতে পারবে ভারতীয় নৌসেনা।
বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী রয়েছে চিনের হাতে। তাই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চাইলে ভারতের হাতে ইআরএএসআরের মতো শক্তিশালী অস্ত্র থাকা জরুরি ছিল। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই রকেট নির্মাণ, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিমানে জ্বালানির সুইচ ত্রুটি! এফএএ সতর্ক করেছিল সাত বছর আগে, গুরুত্ব দেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া?