সতীর্থের পাশে সঞ্জু!
ক্রিকেট মাঠে প্রতিযোগিতা থাকলেও দলের ভেতরের বন্ধুত্ব কখনও কখনও আরও বড় হয়ে ওঠে। ভারতের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের নায়ক Sanju Samson সেই ছবিটাই সামনে আনলেন। ব্যাট হাতে দলকে জেতানোর পর তিনি দাঁড়ালেন ফর্মহীন সতীর্থ Abhishek Sharma-র পাশে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস—আসন্ন ফাইনালটাই হতে পারে অভিষেকের বড় মঞ্চ।
মুম্বইয়ের Wankhede Stadium-এ সেমিফাইনালে India national cricket team হারিয়েছে England national cricket team-কে। ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে এসে সঞ্জু স্পষ্ট করে দেন, দলের ভিতরে অভিষেকের ফর্ম নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই। তাঁর কথায়, “দলের পরিবেশ দারুণ। আমরা সবাই খেলাটা উপভোগ করছি। ড্রেসিংরুমে খুব ভাল সময় কাটছে। Suryakumar Yadav আর Gautam Gambhir আমাদের উপর ভরসা দেখিয়েছেন। অভিষেকের ফর্ম ফিরে পাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আমার মনে হয়, ফাইনালটাই ওর ম্যাচ হবে।”
এই বিশ্বকাপে এখনও বড় রান আসেনি অভিষেকের ব্যাট থেকে। সেমিফাইনালেও দ্রুত আউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সঞ্জু মনে করিয়ে দিয়েছেন, এক সময় দলের কঠিন মুহূর্তে অভিষেকই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই কয়েকটা খারাপ ম্যাচ দেখে তাঁকে বিচার করা ঠিক নয়।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে সঞ্জুর নিজের ফর্মও খুব একটা ভাল ছিল না। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পারছেন খারাপ সময় কীভাবে কাটাতে হয়। তিনি বলেন, “নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজে আমি জোর করে বড় শট খেলতে যাচ্ছিলাম, তাই সমস্যা হচ্ছিল। এখন টাইমিংয়ের উপর জোর দিচ্ছি। ব্যাটে বল ভাল লাগছে। কিন্তু সেই সময় অভিষেকই দলকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল—ওর অবদান ভুলে গেলে চলবে না।”
সেমিফাইনালের ম্যাচ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন সঞ্জু। তাঁর মতে, এই উইকেটে অন্তত ২৫০ রান দরকার—এই ধারণাটা প্রথম দিয়েছিলেন অভিষেকই। তিনি বলেন, “অভিষেক আউট হওয়ার পর আমি আর Ishan Kishan দ্রুত রান তুলছিলাম। পরে Tilak Varma এবং Hardik Pandya একইভাবে খেলেছে। আমরা জানতাম ২৫০-এর কাছাকাছি রান না হলে এখানে জেতা কঠিন।”
ম্যাচে শতরান হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে ভাবেননি সঞ্জু। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের জয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। “আমি কখনও শতরানের কথা ভাবিনি। ওয়াংখেড়েতে রান অনেক হয়, তাই যত বেশি সম্ভব রান তোলাই লক্ষ্য ছিল,” বলেন তিনি।
জয়ের কৃতিত্ব অবশ্য শুধু ব্যাটিং বিভাগকে দেননি সঞ্জু। বিশেষ প্রশংসা করেছেন ভারতের তারকা পেসার Jasprit Bumrah-র। তাঁর কথায়, “বুমরাহ যেভাবে বল করেছে, তা অসাধারণ। এমন বোলার লাখে একজন পাওয়া যায়। আমার মতে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওরই পাওয়া উচিত ছিল।”
সব মিলিয়ে সেমিফাইনালের জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে অনেকটাই। আর ফাইনালের আগে সঞ্জুর এই মন্তব্যই যেন দলের মনোভাব স্পষ্ট করে দেয়—একজন ব্যর্থ হলে অন্যজন তার পাশে দাঁড়ায়। আর সেই বিশ্বাস থেকেই হয়তো জন্ম নেয় বড় জয়ের গল্প।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?