সংকটের মুখে ‘টিম ইন্ডিয়া’!
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব যে বিশ্বজুড়ে পড়ছে, তা আর নতুন করে বলার নয়। এই প্রেক্ষাপটে দেশকে সম্ভাব্য সংকটের জন্য প্রস্তুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন তিনি।
এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য—দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল, তা খতিয়ে দেখা। পাশাপাশি, রাজ্যগুলি নিজেদের স্তরে কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং কোনও বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে কি না, সেটিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল জ্বালানি সরবরাহ। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি বা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই কেন্দ্র সরকার চাইছে আগে থেকেই সব রাজ্যকে সতর্ক করে রাখতে এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গড়ে তুলতে। সূত্রের খবর, নাগরিকদের নিরাপত্তা, জরুরি পরিষেবা সচল রাখা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এই বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—দেশের সব রাজ্য যেন একসঙ্গে কাজ করে, ঠিক যেমনটা হয়েছিল কোভিড মহামারির সময়। সেই সময় কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করেছিল। এবারও ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে কাজ করার উপর জোর দেওয়া হতে পারে।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই বৈঠকে প্রভাব ফেলছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যে ইতিমধ্যেই ভোট ঘোষণা হয়ে গেছে। ফলে ওই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা সরাসরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না বলেই জানা যাচ্ছে। তাঁদের পরিবর্তে মুখ্যসচিবরা অংশ নিতে পারেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
এর আগে সংসদেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও দেশে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেনি, তবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিকল্প উৎস থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ, ইথানল উৎপাদন বাড়ানো—এসব কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে কেন্দ্র।
বিশেষ করে Strait of Hormuz-এর গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তিনি। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে ভারতের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি হয়। ফলে ওই অঞ্চলে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়—বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় একটি বড় প্রস্তুতির অংশ। এখন দেখার, কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিতভাবে কতটা কার্যকর কৌশল তৈরি করতে পারে।