সংকট মোকাবিলায় ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর!
আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝে দেশকে প্রস্তুত রাখতে এবার সব রাজ্যকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রায় দু’ঘণ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—“লড়তে হবে টিম ইন্ডিয়া হয়ে।”
এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি ভোটমুখী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সরাসরি অংশ নিতে পারেননি, কারণ সেখানে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে। তবে সেই রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-ও।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজ্যগুলি কতটা প্রস্তুত, কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার—এই সব বিষয়েই মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনাও বদলাতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বার্থ রক্ষা—এই চারটি ক্ষেত্র এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সঙ্কট ঘিরে দেশে ‘লকডাউন’-এর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই জল্পনাও সরাসরি খারিজ করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিস্থিতি কঠিন হলেও আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবে কোভিডের সময় যেমন কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করেছিল, তেমনই সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন এখন।
মোদী জোর দেন তথ্য ভাগাভাগি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খল যাতে ব্যাহত না হয়, সে দিকে নজর রাখতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া মজুতদারি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের উপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই একটি আন্তঃমন্ত্রক গোষ্ঠী কাজ করছে। ৩ মার্চ থেকে সক্রিয় এই দল প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠকের মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট—সংকট যতই বড় হোক, একসঙ্গে থাকলে তা মোকাবিলা করা সম্ভব। আর সেই কারণেই ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে কাজ করার উপরই জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী।