শ্রীলঙ্কায় চিনা সাইবার অপরাধচক্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি!
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা ক্রমশ আন্তর্জাতিক চিনা সাইবার অপরাধচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হয়ে উঠছে। ভিসার অপব্যবহার করে বিদেশি অপরাধীদের একাংশ সেখানে ঢুকে সাইবার প্রতারণা, হ্যাকিং এবং অন্যান্য সংগঠিত অপরাধ চালাচ্ছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এরই মধ্যে এক চিনা নাগরিকের অপহরণ ও খুনের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিহত ব্যক্তি ‘হাও পন’ নামে কম্বোডিয়ার পাসপোর্টে শ্রীলঙ্কায় ঢুকেছিলেন। তাঁর কাছে আবার সুরিনামের একটি পাসপোর্টও পাওয়া যায়। কম্বোডিয়ায় রিসর্ট ও বিউটি পার্লারের ব্যবসার আড়ালে তিনি হ্যাকিং-চক্র চালাতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অপহরণ থেকে খুন
প্রতিবেদন অনুসারে, কলম্বোর কাছে একটি ঝুলন্ত সেতুর কাছে মাছ ধরার সময় অস্ত্রধারী একটি চিনা গ্যাং তাঁকে অপহরণ করে। তাঁর চালক ও দেহরক্ষীদের মারধর করে তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর এহেলিয়াগোডার কারান্দানায় তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, অপহরণের আগে গোটা অভিযানের পরিকল্পনা ও রেকি করা হয়েছিল।
শ্রীলঙ্কা পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় আট চিনা নাগরিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন গ্রেফতার, তিন জন পলাতক এবং আরও তিন জন শ্রীলঙ্কাতেই আত্মগোপন করে রয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
কেন ভারতের উদ্বেগ?
বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে উদ্বেগের জায়গাটি হল, শ্রীলঙ্কা ভারতের একেবারে কাছের প্রতিবেশী। ফলে সেখানে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধচক্রের ঘাঁটি শক্তিশালী হলে তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলিতেও পড়তে পারে। তবে এই নির্দিষ্ট প্রতিবেদনে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও সরাসরি সাইবার হামলা বা ভারতীয় কোনও প্রতিষ্ঠানে অপরাধচক্রের আক্রমণের প্রমাণ দেওয়া হয়নি—এটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
বাইরের সাম্প্রতিক রিপোর্টও দেখাচ্ছে যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে দমন অভিযান বাড়ার পর চিনা-নিয়ন্ত্রিত সাইবার-স্ক্যাম নেটওয়ার্কের একটি অংশ শ্রীলঙ্কায় কার্যক্রম সরানোর চেষ্টা করছে। শ্রীলঙ্কার সহজলভ্য পর্যটন ভিসা, তুলনামূলক দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং সস্তায় অফিস বা থাকার জায়গা পাওয়া—এসব কারণকে বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।