শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে হার মানেনি জাপান!
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, যেন কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ চলছে। দুই দলের খেলায় ছিল না গতি, ছিল না আক্রমণাত্মক মানসিকতা। কিন্তু বিরতির পর বদলে গেল সবকিছু। ম্যাচে ফিরল উত্তেজনা, এল চারটি গোল, আর শেষ পর্যন্ত জাপানের দুরন্ত লড়াইয়ে ২-২ ড্র করে মাঠ ছাড়তে হল নেদারল্যান্ডসকে।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। তৃতীয় মিনিটে ডনিয়েল মালেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে ছবিটা অন্যরকম হতে পারত। এরপর দীর্ঘ সময় দুই দলই ধীরগতির ফুটবল খেলেছে। নেদারল্যান্ডস বলের দখল ধরে রাখলেও তেমন বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপানও নিজেদের স্বাভাবিক আগ্রাসী ফুটবল থেকে অনেক দূরে ছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান নিজেদের সাহসী ও গতিময় ফুটবলের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছে। জার্মানি, ব্রাজ়িল কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। সেই দলকেই প্রথমার্ধে অনেকটা নিষ্প্রভ দেখাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, যেন আক্রমণে যাওয়ার ইচ্ছাই নেই।
দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৫২ মিনিটে জাপানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক। একটি ক্রস থেকে প্রায় বিনা বাধায় হেড করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
তবে এই গোলই যেন জাপানকে জাগিয়ে তোলে। মাত্র সাত মিনিট পর তাকেফুসা কুবোর দুর্দান্ত উদ্যোগে সমতা ফেরায় তারা। কিতো নাকামুরা বক্সের ভিতর বল পেয়ে নিচু শটে গোল করেন। যদিও বলটি সতীর্থের গায়ে সামান্য লেগে জালে জড়ায়, তবুও রেফারি গোলটি বৈধ বলে ঘোষণা করেন।
সমতা ফিরলেও বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে পারেনি জাপান। কিছুক্ষণ পরই আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ক্রিসেন্সিয়ো সামারভিল বাম দিক থেকে ভেতরে কেটে এসে নিখুঁত শটে গোল করেন। তাঁর গোলটি অনেককেই আর্জেন রবেনের খেলার কথা মনে করিয়ে দেয়।
সময়ের কাঁটা যখন শেষের দিকে এগোচ্ছে, তখন মনে হচ্ছিল তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়বে ডাচরা। কিন্তু জাপান শেষ পর্যন্ত হার মানেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে কোকি ওগাওয়ার শট দাইচি কামাদার গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই সমতা ফেরায় এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
স্কোরলাইন বলছে ম্যাচ ড্র হয়েছে, কিন্তু জাপানের লড়াইয়ের মানসিকতা ছিল জয়ের সমান মূল্যবান। প্রথমার্ধের নিস্তেজ পারফরম্যান্স ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে তারা যে প্রত্যাবর্তন করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
ডালাসে শেষ পর্যন্ত দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পেয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল জাপানের অদম্য লড়াই, যা আবারও প্রমাণ করল— বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের কখনও হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?