অবসর জল্পনায় মুখ খুললেন রোনাল্ডো!
ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন করে জোরালো হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের জল্পনা। সেই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল তাঁর বোন কাটিয়া আভেইরোর মন্তব্যে। তবে ম্যাচ শেষে নিজেই এ বিষয়ে মুখ খুলে আপাতত সব জল্পনায় ইতি টানার চেষ্টা করেছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।
ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে নকআউট পর্বে প্রথম গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন রোনাল্ডো। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবসর নিয়ে এখনই ভাবার সময় নয়। তাঁর কথায়, “এটা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বিশ্বকাপ শেষ হলে, আমরা জিতি বা হারি, তখন এ নিয়ে কথা বলার যথেষ্ট সময় থাকবে। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্তই নেব।”
তিনি আরও জানান, কোনও বড় সিদ্ধান্ত কখনও আবেগের বশে নেন না। রোনাল্ডোর কথায়, “আমি কখনও হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিই না। সব সময় শান্ত মাথায় ভাবি। এই মুহূর্তে আমার একমাত্র লক্ষ্য জাতীয় দলকে যতটা সম্ভব সাহায্য করা।”
সম্প্রতি পর্তুগালের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাটিয়া আভেইরো বলেছিলেন, সম্ভবত এই বিশ্বকাপই দেশের জার্সিতে রোনাল্ডোর শেষ প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি তিনি দাদার সমালোচকদেরও কড়া জবাব দেন। তাঁর দাবি, যারা সত্যিকারের ফুটবল বোঝেন, তারা রোনাল্ডোর অবদানকে সম্মান করেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্তরে খেলার কৃতিত্বকে কয়েকটি সমালোচনা ম্লান করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য দিকে, ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ের পরে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে রোনাল্ডো ও লুকা মদ্রিচের আবেগঘন মুহূর্ত। বহু বছর Real Madrid CF-এ একসঙ্গে খেলা দুই কিংবদন্তির মধ্যে ম্যাচ শেষে দেখা যায় উষ্ণ আলিঙ্গন। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে আবেগাপ্লুত মদ্রিচকে সান্ত্বনা দেন রোনাল্ডো।
সেই প্রসঙ্গে পর্তুগাল অধিনায়ক বলেন, “আমি বহু বছর লুকার সঙ্গে খেলেছি। আমাদের বয়সও প্রায় কাছাকাছি। ও এখনও ফুটবলের একজন কিংবদন্তি। এত বছর পরেও শীর্ষ পর্যায়ে ওকে খেলতে দেখে খুব ভাল লাগে। আমি শুধু বলেছি, ‘ধন্যবাদ, লুকা। তোমার ভবিষ্যতের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল।’”
এক দিকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা, অন্য দিকে দীর্ঘদিনের সতীর্থকে বিদায়ের মুহূর্তে সান্ত্বনা— সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের এই রাত রোনাল্ডোর কাছে শুধু একটি জয় নয়, আবেগে ভরা এক বিশেষ স্মৃতি হয়ে রইল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?