শেফালীর মৃত্যুর পর গুজব ছড়াল পোষ্য সিম্বাকে নিয়ে!
শেফালী জরিওয়ালার মৃত্যু শুধু তার পরিবারকে নয়, মন কাড়ে তার অনুরাগীদেরও। তবে প্রয়াত অভিনেত্রীর সবচেয়ে কাছের সঙ্গী, তার পোষ্য সারমেয় সিম্বা নিয়েই সাম্প্রতিক সময়ে নেটমাধ্যমে শুরু হয় জল্পনা। অনেকেই জানতে চান, প্রিয় ‘মায়ের’ অভাবে কেমন আছে সিম্বা? কেউ কেউ এমনও প্রশ্ন তোলেন—সিম্বা আদৌ বেঁচে আছে তো?
শেফালীর মৃত্যুর ঠিক পরদিনই স্বামী পরাগ ত্যাগীকে দেখা যায় সিম্বাকে নিয়ে হাঁটতে। সেই দৃশ্য ভাইরাল হতেই পরাগকে কটাক্ষ করা শুরু হয় নেটপাড়ায়। তবে অনেকে আবার বুঝে নিয়েছিলেন, সম্ভবত সিম্বার মানসিক অবস্থার জন্যই তাকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন পরাগ। এরপরেই গুজব ছড়াতে থাকে যে, শেফালীর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে সিম্বা। কেউ কেউ তো তার মৃত্যুর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
এই আবহে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে পরাগ নিজেই মুখ খুললেন। তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন যেখানে দেখা যায়, তিনি এক বৃদ্ধাকে খাবার দিচ্ছেন, পাশে পাশে হাঁটছে সিম্বাও। বৃদ্ধা দু’হাত তুলে পরাগ ও সিম্বার মঙ্গল কামনা করেন। সেই ভিডিওর মাধ্যমেই পরাগ জানান—“সিম্বা পুরোপুরি সুস্থ ও শক্তিশালী রয়েছে।”
পরাগ লেখেন, “আমাদের সন্তানের (সিম্বা) স্বাস্থ্য নিয়ে যাঁরা উদ্বিগ্ন, তাঁদের জন্যই এই ভিডিও। শেফালীর পারলৌকিক রীতিতে সিম্বাও নিজের মতো করে অংশ নিয়েছে। মা হারানোর পর ছেলে যেমন দায়িত্ব পালন করে, সিম্বাও তাই করেছে। কিছু হৃদয়হীন মানুষ আমাদের সন্তানের মৃত্যু বা অসুস্থতার মতো মিথ্যে খবর ছড়াচ্ছে শুধু নজর কাড়ার জন্য।”
পরাগের এই সৎ ও আবেগঘন বার্তা সাড়া ফেলে দিয়েছে পোষ্যপ্রেমীদের মধ্যে। কারণ অনেকেই জানেন, প্রিয়জন হারালে পোষ্যরাও গভীর মানসিক ধাক্কা খায়, যদিও তারা তা প্রকাশ করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যগ্রহণ কমে যায়, তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে সিম্বাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুজবে উদ্বিগ্ন ছিলেন অনেকেই।
তবে পরাগের পোস্ট ঘিরে এখন আশ্বস্ত পোষ্যপ্রেমীরা। তাঁদের মতে, একজন পোষ্য শুধুই গৃহপালিত প্রাণী নয়, সে পরিবারেরই এক সদস্য। শেফালীর মৃত্যুর পরেও সিম্বার প্রতি পরাগের যত্ন ও ভালোবাসাই আবারও প্রমাণ করে দিল—সত্যিকারের সম্পর্ক শুধু রক্তের হয় না, হৃদয়েরও হয়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও উঠে এল, সামাজিক মাধ্যমে তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আরও একবার বুঝিয়ে দিল, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ কখনও মৃত্যুর পরে শেষ হয় না। তা প্রমাণ করে দিলেন পরাগ ও সিম্বা—নীরবে, সংবেদনশীলতায়।