শুল্ক ফেরতের জল্পনা!
আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আরোপ করা অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। আদালতের রায়ে সেই শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করার পর এখন প্রশ্ন— কে পাচ্ছে সেই টাকা ফেরত? আর ভারত কি সত্যিই হাজার হাজার কোটি টাকার অংশীদার হতে চলেছে?
ঘটনার সূত্রপাত ট্রাম্প প্রশাসনের সময়। জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ভারত-সহ একাধিক দেশের পণ্যের উপর উচ্চ হারে শুল্ক চাপানো হয়েছিল। এতে আমেরিকার বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, এবং ক্ষতির মুখে পড়ে বহু সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক রায়ে মার্কিন আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই শুল্ক আরোপ সংবিধানসম্মত নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোট প্রায় ১৬,৬০০ কোটি ডলার— অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৫ লক্ষ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। শুনতে বিশাল অঙ্ক। এর মধ্যে ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অংশ ধরা হচ্ছে আনুমানিক ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।
কিন্তু এখানেই রয়েছে মূল ‘ক্যাচ’। এই বিপুল অর্থ সরাসরি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে আসবে না। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, আমেরিকার বন্দরে পণ্য ঢোকার সময় যে সংস্থা শুল্ক দেয়— অর্থাৎ আমদানিকারী মার্কিন সংস্থাই— সেই সংস্থারই শুল্ক ফেরত দাবি করার অধিকার থাকে।
অর্থাৎ, টাকা ফেরত পাবে মূলত আমেরিকার আমদানিকারীরা। ভারতীয় রফতানিকারীরা সরাসরি সেই টাকা দাবি করতে পারবেন না। ফলে ভারতের সংস্থাগুলির লাভ নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায়িক আলোচনার উপর। যদি মার্কিন ক্রেতারা সদিচ্ছা দেখিয়ে ফেরত পাওয়া টাকার একটি অংশ ভাগ করে নেয়, তবেই কিছুটা উপকার হতে পারে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, অনেক ক্ষেত্রে আগেই শুল্কের বোঝা ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, কিছুটা চাপ বহন করেছে আমদানিকারী, আর কিছুটা রফতানিকারী। এখন আমদানিকারীরা পুরো টাকা ফেরত পেলেও সেই অংশ ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে পৌঁছবে— এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
তবে বিশেষজ্ঞরা এটাকে সম্পূর্ণ হতাশার খবর বলছেন না। বরং এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন। ভারতীয় রফতানিকারীরা যদি দ্রুত তাদের মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আলোচনায় বসে, তবে কিছুটা হলেও সেই ফেরত অর্থের ভাগ পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, “ভারত ৯৪ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে”— এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাস্তবে সেই টাকা প্রথমে যাবে মার্কিন সংস্থাগুলির হাতে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সেই অর্থের ভাগ পাবে কি না, তা নির্ভর করছে সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, দরকষাকষি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার উপর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?