শুধু ‘ডাকাত মেয়ে’ নন, সোহিনীর ডামিও!
নটী বিনোদিনীর পর্দায় ছোট একটা চরিত্রে ফিরদৌসি বসুর সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন রুক্মিণী মৈত্র। সেই থেকেই নজরে পড়েছিলেন প্রযোজক-অভিনেতা দেবের। আর তারই ফল, ফিরদৌসির ডাক পড়ে ‘রঘু ডাকাত’-এর সেটে। সম্প্রতি ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডায় ফিরদৌসি ভাগ করে নিলেন তার অভিজ্ঞতার গল্প।
‘সোহিনীর মতো দেখতে!’ — বলেই একদিন…
“অনেকে বলেন আমার সঙ্গে সোহিনী সরকারের চেহারায় মিল রয়েছে। ‘নটী বিনোদিনী’র প্রিমিয়ারে পিছন থেকে দেখে তো কয়েকজন সোহিনীদি বলেও ডেকেছিলেন!”— হেসে বলেন ফিরদৌসি। এমনকি ‘রঘু ডাকাত’-এর ইউনিটও তাঁর মধ্যে সোহিনীর ছায়া দেখেছে। তাই শুধু নিজের চরিত্রেই নয়, একদিনের শটে সোহিনীর ‘ডামি’ হওয়ার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। যদিও সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি, কারণ তখন তিনি শহরের বাইরে অন্য কাজে ব্যস্ত।
‘ডাকাত মেয়ে’র জীবন: লাঠি-খেলা, ধুতি শাড়ি, অ্যাকশন!
ছবিতে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ডাকাত মা’র দলেই রয়েছেন ফিরদৌসি। চরিত্রের জন্য শিখতে হয়েছে লাঠি-খেলা, শাড়ি পরতে হয়েছে ধুতির মতো করে। “চুল সাঁওতালি ঘরানায় বাঁধা, সঙ্গে মোটা রুপোর গয়না— এই রূপে নিজেকে দেখতে বেশ ভাল লেগেছে,” বললেন তিনি। শুধুই অ্যাকশন নয়, চরিত্রের আভ্যন্তরীণ শক্তিও ছিল নজরকাড়া।
দেবদার সঙ্গে সব দৃশ্য, আর একটা পারিবারিক চমক!
“আমার সব দৃশ্যই দেবদার সঙ্গে। ওঁর প্রথম ছবি ‘অগ্নিশপথ’-এর পরিচালক প্রবীর নন্দী আমার দাদু। সেটা শুনে দেবদা তো রীতিমতো চমকে গেলেন!”— ফিরদৌসির গলায় তখনো সেই মুহূর্তের উচ্ছ্বাস।
শুটিংয়ের পুরো পাঁচ দিনে ফিরদৌসি দেবকে একবারও বসে থাকতে দেখেননি। “খাওয়া-দাওয়া, ঘুম— সব ভুলে গিয়েছিলেন ও। পরিশ্রম আর ফোকাস দেখলে বোঝা যায়, কেন দেবদা প্রতিটা ছবিতে নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।”
‘ডাকাত মা’র সঙ্গে এক বিশেষ মুহূর্ত…
ফিরদৌসির কাছে আরেকটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। “শুটিংয়ের প্রথম দিন রূপাদির সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন, ‘শেষ দিনে তুলবে। এই লুকে ছবি তোলা ঠিক হবে না।’ আমি ভেবেছিলাম ভুলে যাবেন। কিন্তু শুটিংয়ের শেষে উনি নিজে থেকেই ডেকে বললেন, ‘ছবি তুলবে না? বলেছিলে তো!’ সেই মুহূর্তটা আমি ভুলব না।”
সোহিনীদি, ইধিকা— আর বন্ধুত্বের গল্প
ছবিতে ইধিকা পালের সঙ্গে নায়িকার চরিত্রেও রয়েছেন ফিরদৌসি। আর সোহিনী সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব জমে উঠেছে বলেই জানান তিনি। “অনেকেই মিল খুঁজে পান আমাদের মধ্যে। সোহিনীদি হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েন!”— বলেন ফিরদৌসি।
এই কয়েক দিনের টানা কাজ ফিরদৌসিকে শিখিয়ে দিয়েছে, বড় তারকারাও কতটা আন্তরিক আর মাটির মানুষ হতে পারেন। সেই শিক্ষাই তাঁর ঝুলিতে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সারা দিন “স্নান করে বেরোলাম” লুক—কীভাবে পাবেন তরতাজা ও সতেজ চুলের জাদু?