শীতে বিরতি?
মাঝ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যের আবহাওয়া যেন খামখেয়ালি। কখনও ভোরবেলা কনকনে ঠান্ডায় কুয়াশার চাদরে মোড়া, আবার কখনও হঠাৎই সেই ঠান্ডা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। বড়দিনের ঠিক আগে, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের আট থেকে দশ জেলায় শনিবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গেও রয়েছে একই রকম পূর্বাভাস।
দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ:
শুক্রবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি এলাকায় আকাশে মেঘের আনাগোনা। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, এবং দুই ২৪ পরগনায় কুয়াশা থাকার পাশাপাশি হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যেতে পারে যে ৫০ মিটারের নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকেই শহরে বইছে ঠান্ডা বাতাস, আর আকাশ দেখে মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তেই নেমে আসতে পারে বৃষ্টি।
শনিবার দক্ষিণবঙ্গের দশটি জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি এবং নদিয়াতে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আর্দ্রতাজনিত কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কমতে পারে।
উত্তরবঙ্গে তুষারপাতের সম্ভাবনা:
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং এবং কালিম্পং এলাকায় শনিবার হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিংয়ের উঁচু পার্বত্য এলাকাগুলিতে হালকা তুষারপাতও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সান্দাকফুতে ইতিমধ্যেই তুষারপাত হয়েছে, এবং এবার সিকিমেও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গের সংলগ্ন পার্বত্য এলাকাগুলিতেও। শীতের ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই খবর যথেষ্ট আকর্ষণীয় হলেও, ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কলকাতায় শীতের ছন্দে বিরতি:
কলকাতায় শীতের আমেজে কিছুটা বিরতি দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৪২ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা ভিজে ঠান্ডার অনুভূতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রার এমন ওঠানামা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃষ্টি কেন?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যেতে পারে। এদিকে, পশ্চিম ভারতের দিকে নতুন করে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হচ্ছে, যা ২৭ ডিসেম্বর উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করতে পারে। এই দুটি সিস্টেমের প্রভাবেই রাজ্যে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পরামর্শ ও প্রস্তুতি:
এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যারা বৃষ্টি কিংবা ঠান্ডার মধ্যে বাইরে বেরোবেন, তারা অবশ্যই ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখুন। যাঁরা বড়দিন বা নববর্ষ উপলক্ষে উত্তরবঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় ঠান্ডা বেশি হওয়ায় উষ্ণ পোশাক নিয়ে যাওয়া একান্ত প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে রাজ্যের আবহাওয়া যথেষ্ট পরিবর্তনশীল। শীতের আমেজে সাময়িক বিরতি পড়লেও, বৃষ্টি ও ঠান্ডার মিশ্রণে সপ্তাহান্তে এক ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে আসছে। আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শীতের প্রকোপ আবার ফিরে আসতে পারে ডিসেম্বরের শেষের দিকে। তাই আপাতত এই ভেজা ঠান্ডাকে উপভোগ করুন, তবে প্রস্তুতিও রাখুন।