শিশুর চোখে জল আর ব্যথা!
শিশু যদি বারবার চোখে ব্যথার কথা বলে বা চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে, অনেকেই প্রথমেই ভাবেন এটি হয়তো কনজাঙ্কটিভাইটিস। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উপসর্গের পিছনে আরও নানা কারণ থাকতে পারে—যার কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।
বসন্তকালে অ্যালার্জির প্রকোপ বেড়ে যায়। বাতাসে ভাসমান ধুলো, ফুলের রেণু বা দূষণের কারণে শিশুদের চোখে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এতে চোখ লাল হওয়া, চুলকানি বা জল পড়া—এই সব লক্ষণ দেখা যায়। তবে শুধু অ্যালার্জি নয়, কর্নিয়ায় সংক্রমণ বা ক্ষতও একই রকম উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
অনেক সময় চোখের পাওয়ার বেড়ে গেলে শিশু ঠিকমতো দেখতে পারে না। ফলে চোখে চাপ পড়ে এবং ব্যথা হয়। দীর্ঘদিন এ ভাবে চলতে থাকলে ‘লেজ়ি আই’-এর মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ছোট বয়সেই চোখে ছানি পড়া বা কর্নিয়ার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি লক্ষণ দেখলেই অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন—শিশু যদি পড়াশোনা করতে গিয়ে অসুবিধার কথা বলে, বারবার চোখ কুঁচকে দেখে বা ঘাড় কাত করে তাকায়, তা হলে দেরি না করে চোখের ডাক্তার দেখানো উচিত। চোখের মণির মধ্যে সাদা দাগ দেখা গেলে সেটিও চিন্তার বিষয়।
এ ছাড়াও, খেলতে গিয়ে চোখে আঘাত লাগলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেক সময় বাইরে থেকে কিছু বোঝা না গেলেও কর্নিয়ায় সূক্ষ্ম আঁচড় পড়তে পারে। এতে আলো সহ্য করতে অসুবিধা হয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় এবং ব্যথা বাড়ে। এই অবস্থাকে কর্নিয়াল অ্যাবারেশন বলা হয়।
কখন বুঝবেন সমস্যা গুরুতর?
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চুলকানি বাড়া
- চোখ থেকে অনবরত জল পড়া
- আলোতে তাকাতে সমস্যা হওয়া
- চোখ ফুলে যাওয়া বা ব্যথা বাড়তে থাকা
এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
কী ভাবে যত্ন নেবেন?
শিশুকে ছোট থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শেখানো জরুরি। বারবার চোখে হাত না দেওয়া, নিয়মিত হাত ধোয়া—এই অভ্যাসগুলি সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। স্কুলব্যাগে পরিষ্কার রুমাল রাখা এবং তা দিয়ে চোখ-মুখ মুছতে শেখানোও দরকার।
প্রতিদিন পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধোয়া ভাল অভ্যাস। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার—মাছ, ডিম, ফল ও সবজি—চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রতি ছয় মাস অন্তর শিশুর চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। এতে সমস্যা থাকলে দ্রুত ধরা পড়ে এবং চিকিৎসাও সহজ হয়।
শিশুর চোখ খুবই সংবেদনশীল। তাই ছোট উপসর্গকেও অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নিলেই বড় সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।