সিঙ্গুরে মোদীর প্রণাম!
হুগলির সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা ঘোষণার দিন থেকেই একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল—সিঙ্গুর কি তবে আবার শিল্পের পথে ফিরবে? শুধু সাধারণ মানুষ নয়, রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সভা থেকেই মিলবে স্পষ্ট শিল্পবার্তা। কিন্তু রবিবারের বিকেলে, ৩৬ মিনিটের ভাষণ শেষ করে মোদী যখন হেলিকপ্টারে কলকাতার পথে উড়ে গেলেন, তখন সিঙ্গুরের আকাশে যেন রয়ে গেল একরাশ অপূর্ণ প্রত্যাশা।
মোদী সিঙ্গুরকে ‘শিল্পের বধ্যভূমি’ না বলে ‘পবিত্রভূমি’ আখ্যা দিয়ে প্রণাম জানালেন। এই শব্দচয়ন আবেগ জাগাল ঠিকই, কিন্তু টাটাকে ফেরানো, শিল্প পুনরুজ্জীবন বা অতীতের সিঙ্গুর অধ্যায়—কোনও প্রসঙ্গেই তিনি স্পষ্টভাবে ঢুকলেন না। শুধু বললেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ফিরবে তখনই, যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক হবে, আর তা সম্ভব তৃণমূল হটলে।
এর আগে অবশ্য রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব একের পর এক বক্তব্যে এমন আবহ তৈরি করেছিলেন, যেন মোদীর মুখ থেকেই সিঙ্গুরের শিল্প ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা আসতে চলেছে। সভামঞ্চে তাঁর আগে বক্তৃতা দেওয়া নেতারাও সেই প্রত্যাশাই উসকে দেন। কিন্তু মোদীর ভাষণ সেই পথে হাঁটেনি।
ভিড় অবশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু মহিলা, কৃষক পরিবার, তরুণ-তরুণী এসেছিলেন ‘কিছু বড় খবর’ শোনার আশায়। সভা শেষে যখন তাঁরা টাটার মাঠের ধুলো মাখা পথ ধরে ফিরছিলেন, তখন তাঁদের মুখে উচ্ছ্বাসের বদলে ছিল একরকম নীরবতা। মধ্যবয়সি এক গৃহবধূ হাসতে হাসতে বললেন, “প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, হেলিকপ্টার দেখলাম—ভালই লাগল। কিন্তু কী যে হল, ঠিক বুঝলাম না।”
বিজেপি কর্মী শ্রীমন্ত দাসের কথায়ও ধরা পড়ল সেই দ্বিধা। তিনি স্বীকার করলেন, শিল্প ফেরানো নিয়ে স্পষ্ট কথা শোনা গেলে মানুষ বেশি আশাবাদী হতেন। “অনেকেই তো ওই কথাগুলোই শুনতে এসেছিল,” তাঁর স্বীকারোক্তি।
সভা-পরবর্তী ব্যাখ্যায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করার গ্যারান্টিই আসল শিল্পবার্তা। তাঁর মতে, মোদীর বক্তব্যই যথেষ্ট স্পষ্ট। কিন্তু দলের অন্দরেই যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে, তা গোপন থাকেনি। অনেক নেতাই মনে করছেন, সিঙ্গুরকে সভাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার যে প্রতীকী গুরুত্ব, ভাষণে তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
অন্য দিকে তৃণমূল কটাক্ষ ছুঁড়ে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরকে কোনও নতুন আশার আলো দেখাতে পারেননি। তাঁদের দাবি, মানুষের প্রত্যাশা অপূর্ণই রয়ে গেছে।
সিঙ্গুরের মাঠে সেদিন সূর্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন আরেকটি আলোও ম্লান হয়ে গেল—শিল্প ফিরে আসার স্পষ্ট স্বপ্ন। মোদীর প্রণাম পেল সিঙ্গুর, পেল ‘পবিত্রভূমি’র স্বীকৃতি। কিন্তু যে বার্তার জন্য হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছিলেন, তা রয়ে গেল শোনা না-শোনা এক প্রতিশ্রুতির ছায়ায়।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা