শিল্পী পরিবারের ঐতিহ্য কি মুছে যাবে? সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে ভাঙা নিয়ে উদ্বেগে বাংলাজুড়ে আলোড়ন

সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে ভাঙা নিয়ে উদ্বেগে বাংলাজুড়ে আলোড়ন! বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুই বাংলায় শুরু হয়েছে চর্চা ও উদ্বেগ। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী…

July 16, 2025
1 min read

সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে ভাঙা নিয়ে উদ্বেগে বাংলাজুড়ে আলোড়ন!

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুই বাংলায় শুরু হয়েছে চর্চা ও উদ্বেগ। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রকাশ করেছেন অসন্তোষ ও দুঃখ। কারণ শুধু সত্যজিৎ রায় নন, তাঁর ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে এই বাড়ির সঙ্গে। উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন সাহিত্যিক, সম্পাদক ও বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা। তাঁর কাজ এবং অবদান আজও বাঙালি সমাজে রয়ে গেছে অমলিন। আর সেই ঐতিহাসিক পরিবারের শিকড় কেটে ফেলা কি এতই সহজ?

খবরে জানা গিয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার সদর শহরের হরিকিশোর রায় রোডে অবস্থিত প্রাচীন ওই বাড়িটি আগে শিশু অ্যাকাডেমি হিসেবে ব্যবহৃত হত। ১৯৮৯ সালে তৎকালীন সেনাশাসক হুসেন মহম্মদ এরশাদের আমলে শিশু অ্যাকাডেমির কাজ শুরু হয় এখানে। তবে ২০০৭ সালের পর থেকে বাড়িটি আর ব্যবহৃত হয়নি। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এই স্থাপনাটি ভেঙে সেখানে বহুতল ভবন গড়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার, এমনটাই দাবি করেছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেলি স্টার’ এবং ‘প্রথম আলো’।

এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাংলায় নানান মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, “রায় পরিবার বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক। উপেন্দ্রকিশোর বাংলার নবজাগরণের একজন স্তম্ভ। তাই আমি মনে করি, এই বাড়ি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। বাংলাদেশ সরকার ও সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন জানাই, এই ঐতিহ্যশালী বাড়িটিকে রক্ষা করুন। ভারত সরকারও বিষয়টি দেখুক।”

আসলে সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টিশীল জগৎ শুরুই হয়েছিল তাঁর পারিবারিক পরিবেশ থেকে। এই বাড়িতে বড় হয়েছেন তাঁর পূর্বপুরুষরা, যেখানে এক সময় ছাপাখানা থেকে শুরু করে সাহিত্য-সম্পাদনার কাজ চলত। সেই স্মৃতিবহ বাড়ি ভেঙে দিলে শুধু একটি ইট-কাঠের গড়ন হারাবে না, হারাবে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদও।

এখন প্রশ্ন উঠছে, পরিত্যক্ত বলে কি সব ঐতিহ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়? ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিমনা মানুষদের মতে, এই ধরনের ভবন সংরক্ষণ করা উচিত। সংস্কার করে নতুনভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে— যেমন জাদুঘর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বা ঐতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই বাংলার মানুষের আবেগের জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বাড়ি। বিশেষ করে যখন দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতি ও ইতিহাসের গভীর সংযোগ রয়েছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত আরও বেশি সংবেদনশীলভাবে নেওয়া উচিত। বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এখন দেখার, সরকার আদৌ এই সিদ্ধান্তে বদল আনে কিনা। আপাতত দুই বাংলার মানুষ অপেক্ষা করছে, সত্যজিৎ রায়ের পারিবারিক ভিটে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে কিনা। মনে রাখতে হবে, ইতিহাস শুধু ইট আর কাঠের বিষয় নয়, তা একটা জাতির আত্মপরিচয়েরও অংশ।

ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনে ধামাকা ডিসকাউন্টে বাজেট স্মার্টফোনের দারুণ অফার চলেছে—নিচে কিছু হাইলাইট আর শীর্ষ—৪ ফোনের তালিকা দেয়া হলো

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *