ফলতার ভোটে বড় বার্তা!
ফলতা উপনির্বাচনের ফল অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশই ধরে নিয়েছিল, এই কেন্দ্রে বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত। তবে আসল আগ্রহ ছিল ভোটের অঙ্কে— বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যায়, তা নিয়ে।
ফলতায় প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটার এবং বাকি অংশ মূলত হিন্দু ভোটার। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের আসনে তৃণমূলের বড় শক্তি ছিল সংখ্যালঘু ভোটের একতরফা সমর্থন। তার সঙ্গে কিছুটা হিন্দু ভোট পেলেই জয় নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই সেই সমীকরণে বদলের ইঙ্গিত মিলছিল। ফলতার ফল যেন সেই পরিবর্তনকে আরও স্পষ্ট করে দিল।
এই উপনির্বাচনে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা পেয়েছেন প্রায় দেড় লক্ষ ভোট। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, তৃণমূল চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে এবং দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম।
এই ফল শুধু বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির ইঙ্গিত নয়, সংখ্যালঘু ভোটের ভিতরেও পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। কারণ, ভোট বিশ্লেষকদের মতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের বেশির ভাগই এসেছে মুসলিম ভোটারদের কাছ থেকে। অন্য দিকে, সিপিএমের ভোটের বড় অংশও এসেছে সেই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক থেকেই। অর্থাৎ মুসলিম ভোট আর এককাট্টা ভাবে তৃণমূলের দিকে নেই।
তবে এই পরিবর্তনের পিছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে। তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই কার্যত লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। দলীয় নেতৃত্বের পাশে না থাকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ফলে তৃণমূলের সংগঠন অনেকটাই ভেঙে পড়েছিল বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
অন্য দিকে, সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি দীর্ঘদিনের সংগঠক এবং স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে পরিচিত মুখ। প্রচারে নেমে তিনি দাবি করেছিলেন, আগের নির্বাচনে ভয় ও চাপের পরিবেশে ঠিকমতো প্রচারই করতে পারেননি। এ বার তুলনামূলক খোলা পরিবেশে প্রচারের সুযোগ পেয়ে মানুষের সাড়া পেয়েছেন।
বিজেপির দাবি, এই ফল মানুষের “স্বাধীন ভাবে ভোট দেওয়ার” প্রতিফলন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বলেছেন, বহু বছর পরে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন বলেই এই ফল এসেছে।
অন্য দিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই ফলকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, একটি উপনির্বাচনের ফল দিয়ে সংখ্যালঘু ভোট পুরোপুরি সরে যাচ্ছে বলা যায় না। বিজেপিকে আটকানোর শক্তি এখনও একমাত্র তৃণমূলের হাতেই রয়েছে।
তবু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফলতার ফল একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে গেল— পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এখন বিকল্প খোঁজার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। কেউ সিপিএমের দিকে ঝুঁকছেন, কেউ কংগ্রেস বা আইএসএফের মতো দলগুলির দিকে তাকাচ্ছেন।
এখন নজর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের দিকে। সেখানকার ফলই হয়তো আরও পরিষ্কার করে দেবে, দক্ষিণবঙ্গের সংখ্যালঘু রাজনীতির নতুন সমীকরণ ঠিক কোন পথে এগোচ্ছে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা