নয়াদিল্লি-মস্কোর বন্ধুত্বে কূটনৈতিক বার্তা
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আমেরিকা ভারতের উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারতীয় পণ্যের উপর জরিমানাসহ প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ব্যবসার লাভ ইউক্রেন যুদ্ধকে শক্তি জোগাচ্ছে। কিন্তু এসব হুঁশিয়ারি ও চাপের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ হবে না।
সম্প্রতি চিনে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একান্ত আলাপ যেন এই বার্তাই দিয়েছে— আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক অটুট। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সম্পর্কের ফলস্বরূপ ভারত আরও কম দামে অপরিশোধিত তেল কিনতে পারবে। সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরু থেকেই প্রতি ব্যারেল তেলের দাম আরও তিন থেকে চার ডলার কমতে পারে।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তখন অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে রাশিয়া তেলের দাম কমিয়ে দেয়, আর ভারত সেই সুযোগকে কাজে লাগায়। কয়েক বছরের মধ্যে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির হার ০.২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত এই সুবিধা নিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে তা পরিশোধন করে লাভ করছে।
তবে এই অবস্থাকে ভালো চোখে দেখছে না আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো সমালোচনা করে বলেন, ‘‘পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের আগে ভারত রাশিয়া থেকে কম তেল কিনত, কিন্তু এখন তা বেড়েছে। ভারত তেল কিনে তা পরিশোধন করে আবার বাজারে বিক্রি করে লাভ তুলছে।’’
রিপোর্ট বলছে, গত জুলাইয়ে ভারত প্রতি ব্যারেল রুশ তেলের দাম প্রায় এক ডলার কমে কিনেছিল। অগস্টে ছাড় বেড়ে দাঁড়ায় আড়াই ডলারে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই ছাড় আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তেল ছাড়াও দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায়ও নতুন দিক খুলতে পারে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা সংস্থার প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ জানিয়েছেন, ভারত আরও এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে আলোচনায় রয়েছে। ২০২৬ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে আরও দুটি ইউনিট সরবরাহ করতে পারে রাশিয়া।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, আমেরিকার শুল্কনীতির চাপে না নত হয়ে নয়াদিল্লি রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করছে। সস্তা তেল ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত করবে, আর উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এই পরিস্থিতি শুধু কূটনৈতিক বার্তাই দিচ্ছে না, বিশ্বরাজনীতিতেও ভারতের স্বতন্ত্র অবস্থান আরও স্পষ্ট করছে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ