শিকারপুর সীমান্তে কাঁটাতারের পরিবর্তে লোহার গেটের দাবি—বিক্ষোভের মুখে বিএসএফের কাজ স্থগিত

শিকারপুর সীমান্তে কাঁটাতারের পরিবর্তে লোহার গেটের দাবি নদিয়ার শিকারপুর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ বিক্ষোভের মুখে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। গ্রামবাসীদের আপত্তির পর এই কাজ স্থগিত রাখা…

January 20, 2025
1 min read

শিকারপুর সীমান্তে কাঁটাতারের পরিবর্তে লোহার গেটের দাবি

নদিয়ার শিকারপুর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ বিক্ষোভের মুখে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। গ্রামবাসীদের আপত্তির পর এই কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কাঁটাতারের পাশাপাশি সেখানে একটি লোহার গেটও লাগাতে হবে, না হলে তাঁরা মাথাভাঙা নদীর জল এবং শ্মশান ব্যবহার করতে পারবেন না। যদিও গ্রামবাসীরা কাঁটাতার দেওয়ার বিরোধী নন, কিন্তু গেট না থাকলে তাঁদের জীবনযাত্রা সমস্যায় পড়বে বলে জানান।

কাঁটাতারের কাজ শুরু হলেও গ্রামবাসীদের প্রতিবাদ

শিকারপুর বিডিও অফিসের কাছাকাছি মাথাভাঙা নদীর পাড়ে প্রায় ১.৩ কিলোমিটার এলাকায় এতদিন কাঁটাতারের বেড়া ছিল না। তবে মাস ছয়েক আগে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই লোহার ‘অ্যাঙ্গেল’ এবং পিলার বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৫, সকাল থেকে মুরুটিয়া থানার শিকারপুর কুটিপাড়া এলাকায় কাঁটাতারের কাজ চলাকালীন গ্রামবাসীরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, কাঁটাতারে গেট বসানোর জন্য বিএসএফকে লিখিত আবেদন জানানো।

লোহার গেটের দাবি, বিএসএফের প্রতিশ্রুতি

শিকারপুর কুটিপাড়া এলাকার কয়েকশো পরিবারের বাস রয়েছে। কাঁটাতারের কাজ শুরু হওয়ার পর, গ্রামবাসীরা সীমান্তে জড়ো হতে থাকেন। তাঁদের দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল—কাঁটাতারের মধ্যে একটি লোহার গেট লাগানো। এই গেট না থাকলে তাঁরা নদী থেকে জল নিতে পারবেন না, এবং তীরের শ্মশান ব্যবহারেও সমস্যা হবে। গ্রামবাসীরা জানান, বিএসএফের সঙ্গে আগে কথা বলার পর, তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সঙ্গে একটি গেট রাখা হবে, তবে কাজ শুরু হওয়ার পর গেটের কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এলাকার জন প্রতিনিধিরাও ক্ষোভ প্রকাশ

শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তপন রায় এবং করিমপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তাপস মণ্ডল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানিয়ে দেন, গ্রামবাসীদের দাবি ছিল, কাঁটাতারের পাশাপাশি একটি গেটও দেওয়া হবে যাতে নদী ও শ্মশান ব্যবহারে সমস্যা না হয়। তাঁরা বলেন, ‘‘গ্রামবাসীরা বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিএসএফও তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিল যে গেটসহ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। কিন্তু এখন গেট ছাড়া কাঁটাতার বসানো হচ্ছে, এটা তাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’’

গ্রামবাসীদের প্রশাসনিক স্তরে আবেদন

গ্রামবাসীরা জানায়, তারা বিএসএফকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন, এবং পাশাপাশি তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাবেন। তাদের দাবি, একমাত্র কাঁটাতারের বেড়া নয়, বরং সেই এলাকায় একটি লোহার গেটও থাকা উচিত যাতে এলাকার মানুষের প্রয়োজনীয়তা মেটানো যায়।

বিএসএফের প্রতিক্রিয়া এবং কাজের স্থগিতি

এদিকে, বিএসএফ জানিয়েছে, তারা গ্রামবাসীদের দাবিগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবে। আপাতত, বিতর্কিত অংশে কাঁটাতারের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বাকি অংশে কাজ চলতে থাকবে। বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা গ্রামবাসীদের সঙ্গেও আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধান খুঁজে বের করবে।

প্রতিকূলতার মধ্যেও সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্ব

এটি স্পষ্ট যে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর কাজ চললেও, সেখানে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও প্রয়োজনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোও জরুরি। যদিও সীমান্ত নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবুও স্থানীয় জনগণের সুবিধা ও অধিকারও সমানভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত। বিএসএফ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সমঝোতা ও সুরক্ষিত পরিস্থিতি বজায় রাখতে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন।

‘চোখ তুলে দেখো না কে এসেছে’: বিয়ের আসরে নাচে মাতলেন রুবেল! লাজুক শ্বেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *