শান্তিনিকেতনে এসএফআই নেত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে যাদবপুরের নেতা সাসপেন্ড

শ্লীলতাহানির অভিযোগে যাদবপুরের নেতা সাসপেন্ড শান্তিনিকেতন ভ্রমণ ঘিরে ফের বিতর্কে জড়াল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে উঠল শ্লীলতাহানির অভিযোগ। অভিযোগকারীও একই বিভাগের ছাত্রী এবং…

September 18, 2025
1 min read

শ্লীলতাহানির অভিযোগে যাদবপুরের নেতা সাসপেন্ড

শান্তিনিকেতন ভ্রমণ ঘিরে ফের বিতর্কে জড়াল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে উঠল শ্লীলতাহানির অভিযোগ। অভিযোগকারীও একই বিভাগের ছাত্রী এবং এসএফআইয়ের সক্রিয় কর্মী। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত নেতাকে আপাতত সমস্ত সাংগঠনিক কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি ইংরেজি বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষানবিশ পর্যায়ের একটি শিক্ষামূলক ভ্রমণে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন। সেখানেই অভিযুক্ত ছাত্রনেতা এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ। ছাত্রী বিষয়টি সংগঠনের কাছে জানান। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা আংশিক ভাবে মেলায় এসএফআই পদক্ষেপ করতে দেরি করেনি।

এসএফআইয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ইউনিটের সহ-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ার পর সংগঠনের স্থানীয় ও আঞ্চলিক স্তরে আলোচনা হয়। তার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ছাত্রনেতাকে সব রকম সাংগঠনিক কাজ থেকে বিরত রাখা হবে। এই বিবৃতি প্রকাশের সঙ্গেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংগঠন। বিবৃতিতে যাদবপুর আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাসেল পারভেজ এবং সম্পাদক সৌগত তরফদারের নাম রয়েছে।

সংগঠনের এক নেত্রী বলেন, “ঘটনা সত্যি হয়েছে। প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই আমরা পদক্ষেপ করেছি। সংগঠনের ভেতরে এমন কোনও উপাদানকে আমরা বরদাস্ত করব না।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত এক মাস আগেই এসএফআইকে ঘিরে আরেকটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। দমদম এলাকার এক নেতার বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন সংগঠনেরই এক নেত্রী। অভিযোগ, তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হন। এমনকি তাঁকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

সেই ঘটনার আঁচ এখনো কাটেনি, তার মধ্যেই নতুন করে যাদবপুরে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিপাকে পড়ল এসএফআই। এবং ঘটনাচক্রে এবারও কেন্দ্রবিন্দু সেই ইংরেজি বিভাগ।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ সম্প্রতি একাধিক কারণে শিরোনামে উঠে এসেছে। অল্প কিছুদিন আগেই এই বিভাগের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে পুকুরে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবার ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করেছে এবং তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

সব মিলিয়ে যাদবপুরের ইংরেজি বিভাগ যেন বিতর্কে জর্জরিত। একদিকে অনামিকা মণ্ডলের রহস্যজনক মৃত্যু, অন্যদিকে ছাত্র সংগঠনের ভেতরে শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ—পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে।

এসএফআই এবং সিপিএম নেতৃত্বের পক্ষেও এই ঘটনাগুলি বড় ধাক্কা। কারণ এর আগে লেকটাউনের ছাত্রনেতাকে ঘিরে ওঠা যৌন প্রস্তাবের অভিযোগ নিয়েও সংগঠনের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত নেতা তরুণীকে একাধিকবার মদ্যপানের প্রস্তাব দেন, ফাঁকা ফ্ল্যাটে ডাকার চেষ্টা করেন এবং প্রত্যাখ্যানের পরও বারবার চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। প্রত্যাখ্যানের পর সংগঠন থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

ফলে একের পর এক ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে, এসএফআই এখন গভীর সংকটে। ছাত্র সংগঠন হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে, শুধু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *