শপথের পর বাংলায় বার্তা নতুন রাজ্যপালের!
পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বাংলায় বার্তা দিলেন R. N. Ravi। নিজের বক্তব্যে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন এবং এই রাজ্যের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য “ধন্য ও বিনম্র হওয়ার” মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার কলকাতার Raj Bhavan Kolkata-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান Sujay Paul। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee, মন্ত্রিসভার সদস্য, শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
বাংলার ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা
শপথ নেওয়ার পর প্রকাশিত বার্তায় রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গকে “ভারতের আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক কেন্দ্র” হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, হাজার হাজার বছর ধরে এই ভূমি জ্ঞানচর্চা, দর্শন ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
তিনি বলেন, প্রাচীন ভারতে বেদের চিরন্তন জ্ঞানের বিকাশ এবং Gautama Buddha-র শিক্ষার বিস্তার এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ভক্তি আন্দোলনের শক্তিশালী ধারাও এই ভূখণ্ডে বিকশিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলার মহান ব্যক্তিত্বদের স্মরণ
নিজের বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বহু মহান ব্যক্তিত্বের কথাও স্মরণ করেন রাজ্যপাল। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন Chaitanya Mahaprabhu, Ramakrishna এবং Swami Vivekananda-র নাম।
এছাড়া সাহিত্য ও জাতীয় চেতনার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি স্মরণ করেন Bankim Chandra Chattopadhyay-কে। তাঁর লেখা ‘বন্দে মাতরম্’ যে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক শক্তিশালী স্লোগান হয়ে উঠেছিল, সেটিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন রাজ্যপাল।
সাহিত্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্য
বার্তায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের কথাও বলেন। Rabindranath Tagore-কে তিনি “অসাধারণ মাপের কবি ও চিন্তাবিদ” হিসেবে বর্ণনা করেন। পাশাপাশি উল্লেখ করেন Sri Aurobindo, Subhas Chandra Bose এবং Syama Prasad Mookerjee-এর নাম।
তাঁর মতে, স্বাধীনতা আন্দোলনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজ্যের মানুষ শুধু আন্দোলনে নেতৃত্বই দেননি, বরং দেশের জাতীয় চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শপথের পর কালীঘাটে প্রার্থনা
রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণের পর সন্ধ্যায় তিনি সস্ত্রীক Kalighat Kali Temple-এ যান এবং পুজো দেন। সেখানে তিনি দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন যাতে তিনি জ্ঞান, শক্তি এবং প্রজ্ঞা লাভ করেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবা করতে পারেন।
রাজ্যপালের এই বার্তা প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে সামনে রেখে রাজ্যপালের এই বক্তব্য ভবিষ্যতে রাজ্য ও রাজভবনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?