শতবর্ষে ঋত্বিক: পর্দায় নতুন করে জীবন্ত এক কিংবদন্তি

শতবর্ষে ঋত্বিক! বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ঋত্বিক ঘটকের নাম এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাঁর শতবর্ষে তাঁকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ছবি ‘অলক্ষ্যে ঋত্বিক’, যেখানে কিংবদন্তি পরিচালকের চরিত্রে দেখা যাবে শিলাজিৎ মজুমদারকে। ছবির…

March 12, 2025
1 min read

শতবর্ষে ঋত্বিক!

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ঋত্বিক ঘটকের নাম এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাঁর শতবর্ষে তাঁকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ছবি ‘অলক্ষ্যে ঋত্বিক’, যেখানে কিংবদন্তি পরিচালকের চরিত্রে দেখা যাবে শিলাজিৎ মজুমদারকে। ছবির পরিচালক শুভঙ্কর ভৌমিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র ব্যবসার জন্য নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে ঋত্বিক ঘটকের অনন্য সৃষ্টিকে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা।

চ্যালেঞ্জ নিয়েই ঋত্বিকের চরিত্রে শিলাজিৎ

সাম্প্রতিক সময়ে ‘অযোগ্য’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন শিলাজিৎ মজুমদার। এবার তিনি আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন—ঋত্বিক ঘটকের চরিত্রে অভিনয় করা। শিলাজিৎ নিজেই বলেছেন, “ঋত্বিকবাবুর সঙ্গে আমার কোনও মিল নেই। তাই নিজ দায়িত্বে কপালের চুল কামিয়েছি, নকল দাঁত লাগিয়েছি, যাতে কিছুটা হলেও তাঁর মতো দেখায়।”

কিন্তু শুধুমাত্র চেহারার পরিবর্তন কি যথেষ্ট? অভিনয় শুরুর আগে তিনি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ঋত্বিক ঘটকের ‘যুক্তি তক্ক গপ্পো’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর মতো ছবিগুলি দেখেছেন, অধ্যয়ন করেছেন পরিচালকের কাজ। তবে তাঁর দাবি, “এই চেষ্টাই সার, আদতে কিস্যু হয়নি!”

পরিচালকের ভাবনা এবং পায়েলের সঙ্গত

শিলাজিতের বিপরীতে ‘সুরমা ঘটক’-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পায়েল সরকার। অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট, এবং শিলাজিৎ নিজেই স্বীকার করেছেন, পায়েল এই চরিত্রে তাঁর চেয়েও ভালো করেছেন। তবে দু’জনেরই মুখাবয়বে চরিত্রের সঙ্গে তেমন মিল নেই। ফলে, পুরোপুরি অভিনয়ের দক্ষতার উপরই নির্ভর করতে হয়েছে তাঁদের।

পরিচালক শুভঙ্কর ভৌমিক প্রথম ছবি দিয়েই বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ছবি শুধুমাত্র ঋত্বিক ঘটকের জীবনী তুলে ধরার জন্য নয়, বরং তাঁর কাজকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নির্মিত। তাঁর কথায়, “এই ছবির উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো।”

বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন

‘অলক্ষ্যে ঋত্বিক’-এর সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে অনেক। কারণ, ঋত্বিক ঘটক নিজে কখনওই মূলধারার বাণিজ্যিক পরিচালকদের মতো জনপ্রিয় ছিলেন না। তাঁর প্রতিভা অসাধারণ হলেও, বক্স অফিসে তাঁর ছবিগুলি বড় সাফল্য পায়নি। শিলাজিৎ নিজেও বলেছেন, “ঋত্বিকবাবু নিজের আমলেই ‘সেলেবল’ ছিলেন না! এমন একজনের জীবন নিয়ে তৈরি ছবি কি আদৌ বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে? জানি না, অভিনয় করার সময় ভাবিওনি।”

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি ‘পদাতিক’-এর মতো চলচ্চিত্রের দিকে তাকালে বোঝা যায়, শুধুমাত্র গুণগত মান থাকলেই দর্শক সিনেমা হলে আসবেন, এমন নয়। মৃণাল সেনের জীবন নিয়ে তৈরি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘পদাতিক’ প্রশংসিত হলেও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে নির্মিত ছবি কতটা দর্শকের মন কেড়ে নিতে পারবে, সেটাই দেখার বিষয়।

শেষ কথা

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই মহান পরিচালকের শতবর্ষ উদযাপন বছর ঘুরতেই একের পর এক ছবি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের ছবি কি শুধুমাত্র বুদ্ধিজীবী দর্শকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সাধারণ দর্শকের কাছেও পৌঁছবে? উত্তর দেবে সময়। তবে একথা সত্য, ঋত্বিক ঘটকের মতো ব্যক্তিত্বদের কাজ যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে, ততই সমৃদ্ধ হবে বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ।

ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *