লোকসভায় ধাক্কা খেল মোদী সরকারের মহিলা সংরক্ষণ বিল!
লোকসভায় বড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব—মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল। শুক্রবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে এই বিলটি পেশ করা হলেও তা সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।
ভোটাভুটির শেষে দেখা যায়, বিলের পক্ষে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোট দেন। যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিলের পক্ষে ছিলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য যে নির্দিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, তা পূরণ হয়নি। ফলে মোদী সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ আপাতত থমকে গেল।
বিতর্কের সময় সরকার পক্ষের শেষ বক্তা হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলেও কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, দেশের অনেক লোকসভা আসনে ভোটারের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বর্তমান কাঠামোতে সাংসদদের পক্ষে কার্যকরভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারকে আস্থা রেখে বিলটি পাশ করতে দেওয়া উচিত।
তবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদরা সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরেননি। ফলে সংসদে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটাভুটির সময় অমিত শাহ বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও আক্রমণ করেন। তিনি কংগ্রেসের বেঞ্চের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সংসদে কীভাবে কথা বলতে হয়, তা রাহুল গান্ধীর তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর কাছ থেকে শেখা উচিত।
এই বিলের মাধ্যমে লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব ছিল। পাশাপাশি লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৮৫০ করার পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি ছিল, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অনেক আসনে ভোটারের সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে গেছে, ফলে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
বিলটি পাশ না হওয়ায় এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংশোধনী প্রস্তাব—যেমন ডিলিমিটেশন বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত বিল—নিয়ে আর ভোটাভুটির পথে যায়নি সরকার।
সব মিলিয়ে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আপাতত কার্যকর হতে পারল না। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?