লিফটে আটকে গেলে আতঙ্ক নয়!
লিফট হঠাৎ মাঝপথে থেমে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বুক ধড়ফড় করা, ঘাম, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ক্লস্ট্রোফোবিয়া (বদ্ধ জায়গার ভয়) রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সহজ পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব।
লিফটে আটকে গেলে প্রথমেই কী করবেন?
- ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম বাজান: লিফটের প্যানেলে থাকা বেল বা জরুরি বোতাম কয়েক সেকেন্ড চেপে রাখুন, যাতে নিরাপত্তারক্ষী বা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন।
- ইন্টারকম ব্যবহার করুন: লিফটে ইন্টারকম থাকলে নিরাপত্তাকর্মী বা কেয়ারটেকারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- ফোনে সাহায্য চান: মোবাইলে নেটওয়ার্ক থাকলে পরিবারের সদস্য, বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ বা জরুরি পরিষেবায় ফোন বা বার্তা পাঠান।
- মোবাইলের আলো ব্যবহার করুন: অন্ধকার হলে টর্চ জ্বালাতে পারেন, তবে ব্যাটারি বাঁচাতে প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
- দরজা জোর করে খুলবেন না: নিজে থেকে দরজা খোলার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। লিফট হঠাৎ চালু হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
- শান্ত হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকুন: লাফালাফি বা অযথা নড়াচড়া না করে দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান বা বসে পড়ুন।
প্যানিক বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কী করবেন?
উদ্বেগ বাড়লে ধীরে ধীরে শ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করুন। গভীর শ্বাস নেওয়া ও ধীরে ধীরে ছাড়লে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং আতঙ্ক কমে।
এছাড়া বিকল্প নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলনও অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এক দিকের নাসারন্ধ্র বন্ধ রেখে অন্য দিক দিয়ে শ্বাস নিন, তারপর দিক বদলে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।
ক্লস্ট্রোফোবিয়া থাকলে কী করবেন?
- গভীর ও ধীর গতিতে বারবার শ্বাস নিন।
- দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান বা মেঝেতে বসে হাতের মুঠো বারবার শক্ত করে বন্ধ ও খুলুন। এতে শরীরের টান কমতে পারে।
- মনে রাখুন, লিফটে সাধারণত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। তাই অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে— এমন আশঙ্কা সাধারণত সত্যি নয়।
- দরজার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে না থেকে চোখ বন্ধ করুন বা ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলুন।
- মন অন্য দিকে রাখতে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত গোনা বা উল্টো দিকে ১০০ থেকে ১ পর্যন্ত গোনার চেষ্টা করতে পারেন।
মনে রাখবেন
লিফটে আটকে পড়া অবশ্যই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা, কিন্তু আধুনিক লিফটগুলো নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়। তাই আতঙ্কিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু করার বদলে শান্ত থেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। শান্ত থাকা শুধু মানসিক উদ্বেগই কমায় না, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?