লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনে ভুল করেননি ট্রাম্প, স্পষ্ট বার্তা ফেডারেল আপিল কোর্টের রায়ে

লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনে ভুল করেননি ট্রাম্প! ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন নীতি ঘিরে অশান্ত পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল গার্ড নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক…

June 20, 2025
1 min read

লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনে ভুল করেননি ট্রাম্প!

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন নীতি ঘিরে অশান্ত পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল গার্ড নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক চলছিল। অবশেষে আমেরিকার ফেডারেল আপিল আদালত জানিয়ে দিল, ওই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যুক্তিসংগত এবং আইনি।

ফেডারেল আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার ৬৫ মিনিট ধরে মামলাটি শুনে বৃহস্পতিবার ৩৮ পাতার রায়ে জানিয়ে দেয়, সান ফ্রান্সিসকোর নিম্ন আদালত যেভাবে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে অপ্রয়োজনীয় বলে রায় দিয়েছিল, সেটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, “লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে ন্যাশনাল গার্ড নামানো ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। আইন প্রয়োগের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ যথার্থ।”

কেন মোতায়েন হয়েছিল সেনা?

গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার একাধিক শহরে, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দিতে থাকেন। শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা। এই অবস্থায় প্রায় ২০০০ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেন ট্রাম্প।

স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, “রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ, তাই কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।” তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় রাজ্য সরকার। সান ফ্রান্সিসকোর আদালতে মামলা দায়ের করে তারা।

নিম্ন আদালতের রায় কেন বদলাল?

সান ফ্রান্সিসকোর আদালত পূর্বে জানায়, এমন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে বিরলভাবে ব্যবহৃত আইন অনুযায়ী সেনা নামাতে হবে। কিন্তু আপিল কোর্ট মনে করে, বাস্তব পরিস্থিতি অনেক ভয়ঙ্কর ছিল এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো একান্ত প্রয়োজন ছিল। তাই নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করা হয়।

আদালতের বেঞ্চে কারা ছিলেন?

এই তিন বিচারপতির মধ্যে দুই জন ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত এবং একজন জো বাইডেন মনোনীত। ফলে আদালতের এই রায়ে একাধিক রাজনৈতিক বার্তাও লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

এই রায়ের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে অথবা ফের আপিলের আবেদন জানাতে পারে। তবে আপাতত এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেই জানা গিয়েছে। কারণ, শুক্রবার একই মামলার শুনানি ফের হওয়ার কথা রয়েছে সান ফ্রান্সিসকোর আদালতে।

পটভূমিতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

নভেম্বরের নির্বাচনের প্রচারে ‘জিরো টলারেন্স’ অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসে সেই নীতিই কার্যকর করতে গিয়ে তিনি বহু বার বিতর্কে জড়িয়েছেন। আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বাহিনী ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে। বহু অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার হয়েছেন। সেই ধরপাকড় নিয়েই পথে নামেন হাজার হাজার মানুষ।

উপসংহার

বর্তমানে আদালতের এই রায়ের পরে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে অভিবাসন নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ছাড়পত্র থাকছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায় কি না এই বিতর্ক।

বিমানের প্রতি ভয় বাড়ছে? দুর্ঘটনার পরে যাত্রীদের মনে ঘনীভূত ‘ফ্লাইট অ্যাংজাইটি’

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *