‘লভ জিহাদ’ থেকে ধর্মান্তরণ!
পশ্চিমবঙ্গে জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, তথাকথিত ‘লভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে নতুন ও আরও কঠোর আইন আনার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাজ্য সরকার এই বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করবে। পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) সংক্রান্ত বিলও বিধানসভায় আনার প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জোর করে ধর্মান্তরণ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, বিয়ে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণা করে ধর্মান্তরণের অভিযোগকেও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। একই সঙ্গে ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিত ভাবে জমি কেনাবেচার মাধ্যমে জনবিন্যাস বদলের অভিযোগও সরকার খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করবে।
বর্তমানে দেশে জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ রুখতে কয়েকটি বিজেপি-শাসিত রাজ্যে পৃথক আইন কার্যকর রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ও উত্তরাখণ্ডে ধর্মান্তরণ সংক্রান্ত আইনে আন্তঃধর্মীয় বিবাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। যদিও এই আইনগুলির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন। অন্য দিকে, অসমেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় আন্তঃধর্মীয় বিবাহ সংক্রান্ত কিছু নতুন বিধান আনা হয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্যে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ প্রসঙ্গও বিশেষভাবে উঠে আসে। বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পরিকল্পিত জমি কেনাবেচার মাধ্যমে কিছু এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলের চেষ্টা চলছে। সেই প্রেক্ষিতেই জমি লেনদেন সংক্রান্ত নতুন বিধিনিষেধ আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আইনটি কী রূপ নেবে বা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নাম না করে বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নীরব থাকা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বা রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এ ছাড়াও তিনি ঘোষণা করেন, জরুরি অবস্থার সময় যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং কারাবন্দি ছিলেন, তাঁদের আগামী ৯ অগস্ট রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মান জানানো হবে।
ধর্মান্তরণ, আন্তঃধর্মীয় বিবাহ এবং জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনগুলি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি স্তরে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইনগুলির খসড়া প্রকাশের পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?