লখনউয়ে শেষ পন্থ অধ্যায়!
ঋষভ পন্থের লখনউ সুপার জায়ান্টস অধ্যায়ের অবসান ঘটল। মাত্র দুই মরসুমের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল তাঁর সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সম্পর্ক। আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে পুরনো দল দিল্লি ক্যাপিটালসে ফিরে গেলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। অন্য দিকে দিল্লি থেকে লখনউয়ে পাড়ি দিলেন বাঁহাতি স্পিনার কুলদীপ যাদব।
গত আইপিএলের শেষ দিক থেকেই পন্থের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের দায় নিয়ে নেতৃত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তার আগেই লখনউয়ের ক্রিকেট ডিরেক্টর টম মুডি নেতৃত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।
দিল্লি ক্যাপিটালস সরাসরি লখনউয়ের কাছ থেকে পন্থকে দলে ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে এই প্রত্যাবর্তনে বড় আর্থিক পরিবর্তন হয়েছে। গত দুই মরসুমে রেকর্ড ২৭ কোটি টাকা পাওয়া পন্থ এবার দিল্লি থেকে পাবেন ১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ১২ কোটি টাকা কমে গেল তাঁর বেতন।
অন্য দিকে পন্থের বিনিময়ে লখনউয়ের হাতে গেলেন কুলদীপ যাদব। এই পরিবর্তনে সামান্য হলেও লাভবান হয়েছেন ভারতীয় স্পিনার। দিল্লিতে যেখানে তিনি বছরে ১৩.২৫ কোটি টাকা পেতেন, সেখানে লখনউ তাঁকে দেবে ১৩.৫০ কোটি টাকা।
দিল্লির সঙ্গে পন্থের সম্পর্ক অবশ্য বেশ পুরনো। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির হয়েই আইপিএল খেলেছেন তিনি। গত নিলামেও তাঁকে ধরে রাখতে মরিয়া ছিল দিল্লি। সেই কারণেই ‘রাইট টু ম্যাচ’ ব্যবহার করে ২৭ কোটি টাকা পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। লখনউয়ের মালিক সঞ্জীব গোয়েন্কাও তখন পন্থকে দলে নিতে সেই দাম দিতে রাজি হয়েছিলেন।
কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী লখনউয়ে সময় কাটেনি পন্থের। গত দুই মরসুমে তাঁর ব্যাটে সেই পুরনো আগ্রাসন দেখা যায়নি। শেষ আইপিএলে ১৪টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৩১২ রান। একই সঙ্গে অধিনায়কত্ব নিয়েও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। লিগ তালিকার একেবারে শেষে থেকে অভিযান শেষ করেছিল লখনউ।
পন্থকে ধরে রাখার জন্য লখনউ কর্তৃপক্ষের তরফে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকে সঞ্জীব গোয়েন্কার অনুরোধ সত্ত্বেও আর দলের সঙ্গে থাকতে রাজি হননি পন্থ। তিনি নিলামে নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই তাঁকে ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখায় দিল্লি।
এ বার প্রশ্ন, পুরনো দলে ফিরে কি আবার নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারবেন পন্থ? তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং এবং নেতৃত্বের ক্ষমতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে দীর্ঘ চোটের পর আগের ধারাবাহিকতা ফিরে পাওয়াই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্য দিকে কুলদীপ যাদবও গত আইপিএলে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। ১২টি ম্যাচে নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। তবু লখনউ তাঁকে দলে নিয়েছে মূলত বোলিং বিভাগের ভারসাম্য বাড়ানোর জন্য। গত পাঁচ বছর দিল্লির হয়ে খেলা কুলদীপ এবার নতুন জার্সিতে নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?