রোহিত শেট্টীর বাড়িতে গুলিকাণ্ড কি হঠাৎ?
পরিচালক রোহিত শেট্টীর বাড়ির সামনে গুলির ঘটনা যে নিছক আকস্মিক ছিল না, তা তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে। মুম্বই পুলিশের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল আগাগোড়া পরিকল্পিত। হামলার আগে দীর্ঘদিন ধরে রোহিতের জুহুর বাড়ি ও আশপাশের এলাকা ‘রেকি’ করা হয়েছিল—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি এই হামলার নেপথ্যে জড়িত। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা কয়েক দিন ধরে রোহিত শেট্টীর বাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করছিল। শুধু বাড়ির সামনেই নয়—কোন রাস্তা দিয়ে ঢোকা সহজ, কোন পথে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়া যায়, কাছাকাছি কোথায় পুলিশি টহল থাকে—এই সব খুঁটিনাটি তথ্য তারা নোট করেছিল। এমনকি আশপাশের রাস্তাঘাট ও সময়ভিত্তিক যান চলাচলের দিকেও নজর ছিল তাদের।
হামলার দিন ব্যবহৃত হয় একটি স্কুটার। উদ্দেশ্য একটাই—গুলি চালিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে ফেলা। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই স্কুটারটি আগেভাগেই কেনা হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকায়। পুলিশের মতে, শুভম লোনকর নামে এক ব্যক্তি সেই অর্থ জোগান দেন। তাঁর নির্দেশেই সমর্থ পোমাজি ও আদিত্য গায়কোয়াড় স্কুটার কেনার ব্যবস্থা করে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনজনই পুরো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
হামলার পর আততায়ীরা কৌশলে পালানোর পরিকল্পনাও করেছিল। গুলি চালানোর পর স্কুটারটি ভিলে পার্লে রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ফেলে রাখা হয়। তার পর লোকাল ট্রেনে চেপে মুম্বই ছেড়ে পালায় তারা। এই ‘এগজ়িট প্ল্যান’ও যে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল, সে কথাই এখন জোরের সঙ্গে বলছে পুলিশ।
আরও জানা গিয়েছে, সমর্থ পোমাজি ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে শুভম লোনকর এবং গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। তদন্তকারীদের মতে, পরিকল্পনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছিল এই এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে। কে কোথায় থাকবে, কখন কী করবে—সবই নাকি ছিল পূর্বনির্ধারিত।
যদিও এত তথ্য সামনে এলেও হামলার মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি সূত্র ধরে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন, ডিজিটাল চ্যাট—সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, খুব শিগগিরই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে। রোহিত শেট্টীর বাড়িতে গুলিকাণ্ড শুধু এক জন পরিচালককে লক্ষ্য করে হামলা নয়—এটি যে সংগঠিত অপরাধচক্রের ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা, তদন্তের অগ্রগতিতে তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। মুম্বই পুলিশও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই