রোহিঙ্গাদের পাশে ট্রাম্পের আমেরিকা!
গৃহযুদ্ধের আবহে ভয়াবহ খাদ্যসঙ্কটের মুখে পড়েছে মায়ানমারের বিস্তীর্ণ অংশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘উন্নয়ন কর্মসূচি’ (UNDP) চার মাস আগেই সতর্ক করেছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে খাদ্যের যোগান বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোও মারাত্মক খাদ্য সংকটের শিকার, কারণ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) তহবিল ছাঁটাই করেছে। এই সংকটের মাঝেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল আমেরিকা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা করেছে, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য WFP-এর মাধ্যমে ৭৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬২৫ কোটি টাকা) অনুদান দেওয়া হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “এই অনুদানের ফলে ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা পাবেন।”
দীর্ঘদিনের সংকটে নতুন আশার আলো
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী দেশ হিসেবে আমেরিকা অব্যাহতভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত আমেরিকার দেওয়া আর্থিক সহায়তার পরিমাণ প্রায় ২৪০ কোটি ডলার। চলতি মাসেই রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারই প্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদার সহযোগিতা নিঃসন্দেহে রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এক নতুন আশার সঞ্চার করবে।
কেন এত বড় সংকটে রোহিঙ্গারা?
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মায়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাখাইন রাজ্যের ৯০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’-এর নিয়ন্ত্রণে। রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নেমেছে।
বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচরের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গার একমাত্র ভরসা রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য সহায়তা। কিন্তু WFP-এর তহবিল সংকটে সেই সহায়তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ফলে বহু শরণার্থী কার্যত অনাহারে দিন কাটাচ্ছিল।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য আমেরিকার বার্তা
এই সংকট মোকাবিলায় শুধু আমেরিকা নয়, অন্য দেশগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেছেন, “মানবতার স্বার্থে বিশ্বের আরও দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সহায়তা নিঃসন্দেহে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। তবে এই মানবিক সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন একটি টেকসই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
মোদীর আমন্ত্রণে সাড়া, ভারতে আসছেন পুতিন! দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়