রোনাল্ডোর উপর অতিনির্ভরতা!
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশা অনুযায়ী ছন্দে দেখা যায়নি পর্তুগালকে। তিন ম্যাচে মাত্র একটি জয়, দুটি ড্র— এই পারফরম্যান্স ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ করে দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করলেও পরের দুই ম্যাচে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। ঠিক কোথায় সমস্যা হচ্ছে পর্তুগালের? সেই উত্তর খুঁজেছেন রোনাল্ডোর দীর্ঘদিনের সতীর্থ রিকার্ডো কারেজ়মা।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারেজ়মা বলেন, বর্তমান পর্তুগাল দলে খেলার আনন্দটাই যেন হারিয়ে গেছে। তাঁর মতে, ফুটবলারদের মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট। সবাই যেন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে খেলছেন, নতুন কিছু করার সাহস বা স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছে না। এই কারণেই দলকে প্রাণহীন মনে হচ্ছে।
কারেজ়মার পর্যবেক্ষণে, পর্তুগালের ফুটবলারদের ক্লান্তও দেখিয়েছে। তাঁর দাবি, জেতার ক্ষুধা বা লড়াইয়ের তীব্রতা আগের মতো চোখে পড়ছে না। এই মানসিক অবস্থাই দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।
রোনাল্ডোকে নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি। কারেজ়মা বলেন, বয়সের কারণে রোনাল্ডোর কাছ থেকে আগের মতো প্রতিটি ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই দলের অন্য ফুটবলারদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। এখনও যদি পুরো আক্রমণভাগ রোনাল্ডোর উপর নির্ভর করে থাকে, তবে সেটি দলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেও শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে তারা। শেষ মুহূর্তে কলম্বিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে পর্তুগালকে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হত।
গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করায় নকআউট পর্বে কঠিন পথ অপেক্ষা করছে পর্তুগালের সামনে। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। সেই ম্যাচ জিততে পারলে পরের পর্বে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপে অনেক দূর যেতে হলে খুব দ্রুত নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে রোনাল্ডোদের। কারেজ়মার মতে, শুধু রোনাল্ডোর দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না— গোটা দলকেই আরও প্রাণবন্ত, সৃজনশীল এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?