রেলের ইউনিয়ন ভোটে প্রথম ইভিএম
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে ভারতীয় রেলের ইউনিয়ন ভোট। দেশের ১৭টি জ়োনে এই ভোটগ্রহণ চলছে এবং তিন দিন ধরে চলবে। তবে এবারের ভোটের একটি বিশেষত্ব হল, কলকাতা মেট্রোতে প্রথমবারের মতো ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এতদিন ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সাধারণত জাতীয় এবং রাজ্য স্তরের নির্বাচনে ব্যবহৃত হতো, কিন্তু স্থানীয় স্তরের ভোটে বিশেষত পঞ্চায়েত বা পুরসভা নির্বাচনে এর ব্যবহার ছিল সীমিত। তবে এবার রেলের ইউনিয়ন নির্বাচনে কলকাতা মেট্রোতেই প্রথম ইভিএম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হল।
কলকাতা মেট্রো রেলের কর্মীরা ইভিএমে ভোট প্রদান করেছেন। তবে, ইভিএম ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণও হয়েছে। অর্থাৎ, কলকাতা মেট্রো রেলের ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতে দু’ধরনের ব্যবস্থা ছিল – একদিকে ইভিএম, অন্যদিকে ব্যালট। কলকাতা মেট্রোর ৬টি জায়গায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে: মেট্রো রেল ভবন, পার্ক স্ট্রিট, সেন্ট্রাল পার্ক ডিপো, সল্টলেক, টালিগঞ্জের অফিসার্স ক্লাব এবং নোয়াপাড়া প্রশাসনিক ভবন। ভোটগ্রহণের পরবর্তী গণনা আগামী ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, এবারের ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার পরীক্ষামূলকভাবে করা হয়েছে। তবে, ভোট গণনার জন্য এখনও ব্যালট পেপারই ব্যবহার করা হবে। পরবর্তীতে ইভিএমের ভোটের ফলাফল ব্যালটের ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটি সফল হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে রেলের ইউনিয়ন ভোটের জন্য ইভিএম ব্যবহারের পরিসর আরও বাড়ানো হতে পারে। ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের ফলাফল দ্রুত এবং সঠিকভাবে গণনা করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে রেলের ইউনিয়ন ভোটকে আরও সহজ এবং স্বচ্ছ করতে সহায়ক হবে।
তবে, ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে কলকাতা মেট্রোয় কিছুটা বিতর্কের জন্মও হয়েছে। বিশেষত, রেলের ইউনিয়ন ভোটের সাথে সম্পর্কিত কিছু ঘটনার কারণে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে ভোটগ্রহণের সময় শঙ্কিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকা বহিরাগতরা স্টেশনে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে এবং ইআরএমসি ও ইআরএমইউ-এর বুথে ভাঙচুর চালায়। এই হামলার ফলে পাঁচ জন রেলকর্মী আহত হন, এবং তাদের মধ্যে এক ইআরএমসি কর্মীর মাথা ফেটে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, স্টেশনে আরপিএফ (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স) এর বিশাল বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, তবে এই ঘটনা রেলের ইউনিয়ন ভোটের পরিবেশকে তিক্ত করে তোলে।
এই ধরনের সন্ত্রাসের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অনেকাংশে কলঙ্কিত করে এবং প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। বিশেষ করে, ইউনিয়ন ভোটগুলির ক্ষেত্রে একাধিক রাজনৈতিক দলের এবং শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় এমন ধরনের পরিস্থিতি কখনও কখনও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তবে, পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
এখনও পর্যন্ত, কলকাতা মেট্রোয় ইভিএম ব্যবহার পরীক্ষামূলক ছিল, কিন্তু পুরো রেলের ইউনিয়ন ভোট ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত করতে ইভিএম ব্যবহারের প্রতি প্রবণতা বাড়ানো যেতে পারে। তবে, এমন ঘটনায় ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা অশান্তি সৃষ্টি না হয়।