রেকর্ডের আড়ালে প্রশ্নচিহ্ন: বৈভবের ঝলকানিতে মুগ্ধ হলেও কেন চিন্তিত অশ্বিন

বৈভবের ঝলকানিতে মুগ্ধ হলেও কেন চিন্তিত অশ্বিন! বিজয় হজারে ট্রফির শুরুতেই ইতিহাস লিখেছে বিহার। অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারে ৫৭৪ রান—ঘরোয়া এক দিনের ক্রিকেটে যা বিশ্বরেকর্ড। সেই ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন…

December 26, 2025
1 min read

বৈভবের ঝলকানিতে মুগ্ধ হলেও কেন চিন্তিত অশ্বিন!

বিজয় হজারে ট্রফির শুরুতেই ইতিহাস লিখেছে বিহার। অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারে ৫৭৪ রান—ঘরোয়া এক দিনের ক্রিকেটে যা বিশ্বরেকর্ড। সেই ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মাত্র ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশী, যিনি একাই ১৯০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই ক্রিকেটপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেই একটু ভিন্ন সুর শোনা গেল প্রাক্তন ভারতীয় অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন–এর কণ্ঠে।

বৈভবের অসাধারণ কীর্তির প্রশংসা করতে তিনি কার্পণ্য করেননি। তবু অশ্বিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের একতরফা ফলাফল তাঁকে উচ্ছ্বসিত করছে না। বরং এতে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু গভীর প্রশ্ন উঠে আসছে।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, বৈভব যা করেছে, সেটাই তার কাজ। সুযোগ পেলে যে কোনও ব্যাটারই রান করবে। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। তাঁর মতে, এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে কিছু দলের মধ্যে পার্থক্য এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, ম্যাচে প্রকৃত লড়াই আর থাকছে না। তিনি বলেন, “যদি আমরা অরুণাচল প্রদেশকে একটি প্রতিযোগী দল হিসেবে দেখি, তা হলে এমন ফল তাদের আত্মবিশ্বাসে কী প্রভাব ফেলবে, সেটা ভেবে দেখা দরকার। এটা শুধু একটি ম্যাচ নয়, গোটা ব্যবস্থার প্রতিফলন।”

অশ্বিনের বক্তব্যে একটা বাস্তব চিন্তা স্পষ্ট। ক্রিকেট শুধুই রানের খেলা নয়, আত্মবিশ্বাস আর প্রতিদ্বন্দ্বিতারও খেলা। যখন ব্যবধান অত্যধিক বেড়ে যায়, তখন দুর্বল দলগুলির শেখার সুযোগ কমে যায়। আর সেখানেই সমস্যা দেখছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে শুধু বিহার-অরুণাচল ম্যাচই নয়, বিজয় হজারের প্রথম রাউন্ডের আরও কিছু ফলাফলও নজরে এনেছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা। ঝাড়খণ্ডের ৪১২ রান কর্নাটক অনায়াসে তাড়া করেছে। বাংলা ৩৮৩ রান তাড়া করে হারিয়েছে বিদর্ভকে। অর্থাৎ, কিছু ম্যাচে লড়াই দেখা গেলেও কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য চোখে পড়ার মতো।

একই আলোচনায় অশ্বিন প্রশংসা করেছেন ঈশান কিশন–এর মানসিক দৃঢ়তার। তাঁর কথায়, ঈশান কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন—দল থেকে বাদ পড়া, বিরতি নেওয়া, এক দিনের ক্রিকেটে দ্বিশতরান করেও জায়গা না পাওয়া। কিন্তু সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ভাল পারফরম্যান্সই তাঁর ভাগ্য ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন বিজয় হজারে মিডল অর্ডারে নেমে ৩৩ বলে শতরান—এই আত্মবিশ্বাসই একজন ক্রিকেটারকে আবার শীর্ষে ফিরিয়ে আনে বলে মনে করেন অশ্বিন।

সব মিলিয়ে, বৈভব সূর্যবংশীর রেকর্ড নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু সেই রেকর্ডের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যবধানের ছবিটা অশ্বিনের চোখ এড়ায়নি। তাঁর বার্তা পরিষ্কার—ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের ভারসাম্য আর প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো নিয়েও ভাবতে হবে। কারণ শক্ত ভিতের উপরেই তো দাঁড়ায় ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেট।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *