বৈভবের ব্যাটে নির্বাচকদের জন্য বড় বার্তা!
মাত্র ১৫ বছর বয়স। কিন্তু ব্যাট হাতে তাঁর আত্মবিশ্বাস দেখে বয়সের হিসাব ভুলে যেতে হয়। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ত্রিদেশীয় সিরিজ়ের ফাইনালে এমনই এক বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ২৯ বলে ৯৪ রান করে ভারত ‘এ’ দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেন তিনি। শুধু ম্যাচ জেতানো নয়, এই ইনিংসের মাধ্যমে ভারতীয় নির্বাচকদের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখলেন বিহারের এই তরুণ ব্যাটার।
ফাইনালের আগে পর্যন্ত বৈভবকে অনেকে শুধুই টি-টোয়েন্টির ক্রিকেটার হিসেবে দেখছিলেন। কিন্তু ম্যাচ শেষে তাঁর মন্তব্য বুঝিয়ে দিল, লম্বা ফরম্যাটেও নিজের জায়গা তৈরি করতে প্রস্তুত তিনি। ম্যাচের সেরা হওয়ার পর বৈভব বলেন, “এই সিরিজ় থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তবে আমি এক দিনের ক্রিকেটও অনেক খেলেছি। হয়তো অনেকেই সেটা জানেন না।”
এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তাঁর আত্মবিশ্বাস। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ইতিমধ্যেই ৫০ ওভারের ফরম্যাটে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন বৈভব। ভারতের বয়সভিত্তিক দলে এক দিনের ক্রিকেটে ২৫টি ম্যাচ খেলে চারটি শতরান-সহ ১৪১২ রান করেছেন তিনি। তাই তাঁকে শুধু ছোট ফরম্যাটের বিস্ফোরক ব্যাটার ভাবলে ভুল হবে— সেটাই বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন তিনি।
ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বৈভব। প্রথম ১০ ওভার কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে ব্যর্থতার পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই তরুণ। এমনকি মাঠে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই সব পিছনে ফেলে ফাইনালে ঠান্ডা মাথায় নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলেন তিনি।
বৈভব বলেন, “বদলার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। শুধু চেয়েছিলাম শুরুটা ভাল করতে। আগের কয়েকটি ম্যাচে শুরুটা কাজে লাগাতে পারিনি। কোচের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছি বলেই ফাইনালে ভাল খেলেছি।”
ডাম্বুলার মাঠে তাঁর ব্যাটিং ছিল রীতিমতো ঝড়ের মতো। মাত্র ১১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বৈভব। এর মাধ্যমে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতরানের নজির গড়েন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার কৌশল্য বীরারত্নের দখলে, যিনি ১২ বলে ৫০ রান করেছিলেন।
বৈভবের ১১ বলের অর্ধশতরানের পথে ছিল পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৯৪ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ১০টি চার এবং ৮টি ছক্কা। শতরান থেকে অল্পের জন্য বঞ্চিত হলেও তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারত ‘এ’-কে জয়ের পথে নিয়ে যায়।
আইপিএলেও নজর কেড়েছেন বৈভব। গত মরসুমে সর্বোচ্চ রান করে কমলা টুপি জিতেছিলেন তিনি। তার পর থেকেই তাঁকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠেছিল। ভারতের টি-টোয়েন্টি দল এবং এশিয়ান গেমসের দলেও জায়গা পেয়েছেন তিনি।
এ বার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ইনিংসের পর আরও এক বার প্রমাণ করলেন, শুধু প্রতিভা নয়, বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষমতাও রয়েছে তাঁর। ১৫ বছরের এই ক্রিকেটার যে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের অন্যতম বড় নাম হতে চলেছেন, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?